আমিরাকাতে বিগদত ৬ মাসে দুই হাজারের বেশি ইসলাম গ্রহণ !

UNCATEGORIZED
আমিরাকাতে বিগদত ৬ মাসে দুই হাজারের বেশি ইসলাম গ্রহণ !

আরব আমিরাতে ছয় মাসে দুই হাজারের বেশি লোক ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ইসলামের শিক্ষায় আকৃষ্ট হয়ে দেশটিতে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা মুসলিম হন। দুবাই ভিত্তিক সংস্থা মুহাম্মদ বিন রাশিদ সেন্টার ফর ইসলামিক কালচারাল চলতি বছরের এক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানায়।

খবর খালিজ টাইমসের। খবরে জানা যায়, আমিরাতের সরকারি পরিসংখ্যানে মতে ২০২১ সালের শুরু থেকে জুন মাস পর্যন্ত দুই হাজার ২৭ জন ইসলামিক সেন্টারে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে কালেমা শাহাদাহ পাঠ করেছেন।

দুবাইয়ে অবস্থিত ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল এক্টিভিটিজ (আইএসিএডি)-এর তত্ত্বাবধানে নওমুসলিমদের ইসলামের উদার মনোভাব শিক্ষা দেওয়া হয়। এছাড়াও তাদেরকে ইসলামিক সেন্টােরের পৃষ্ঠপোষকতায় সমাজ, শিক্ষা ও ধর্মীয় সহায়তা প্রদান করা হয়। নওমুসলিমদের ইসলামের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও উদার মনোভাবের প্রসারে কাজ করে থাকে দুবাই ভিত্তিক এই সংস্থাটি।

এছাড়াও ইসলামের মূল শিক্ষা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা সভা ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেন্টার ফর ইসলামিক কালচারাল-এর পরিচালক হিন্দ মুহাম্মদ লুতাহ বলেন, ‌‌‘ইসলামিক কালচারাল সেন্টার দুবাইয়ে বসবাসকারী সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে ইসলামী মূল্যবোধ প্রসারে কাজ করে।

এক্ষেত্রে সব ধরনের প্রযুক্তিগত সুবিধার ব্যবহার করা হয়। নিউ মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেকশনের প্রধান হানা আল জাল্লাফ জানান, ইসলামিক সেন্টার উন্নত কর্মপন্থার আলোকে ইসলামী সংস্কৃতি, মধ্যপন্থা ও সহনশীলতার মূল্যবোধ প্রচার করে।

সেন্টারের প্রশিক্ষণের কারণে দুবাইয়ের দুই হাজার বাসিন্দা ইসলামে দীক্ষিত হয়েছেন। আল জাল্লাফ আরো জানান, কেউ ইসলাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে কিংবা ইসলামে দীক্ষিত হতে চাইলে সেন্টারের পক্ষ থেকে নানা ধরনের সহায়তা করা হয়। কেউ চাইলে ৮০০৬০০০ নাম্বারে ফোন করতে পারে।

তাছাড়া ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল এক্টিভিটিজ (আইএসিএডি)-এর ওয়েবসাইটে সহজেই সবকিছু জানা যায়।

আরো পড়ুন: যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন কোরিয়ান অভিনেত্রী !

আধুনিক বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের অন্যতম হলেন কোরিয়ান অভিনেত্রী আয়ানা মুন। ২০১০ সালে তিনি ইসলামগ্রহণ করেছিলেন। অনেক বছর আগে ইসলামগ্রহণ করলেও দীর্ঘ দশক পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়।

মুসলিম নারীদের ফ্যাশন মডেল আয়ানা মুন ১৯৯৫ সালে কোরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন মুসলিম অভিনেত্রী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে কাজ শুরু করেন।

একজন হিজাবি মডেল ও সমাজকর্মী হিসেবে ব্যাপক সুনাম কুড়ান আয়ানা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তাঁর ৩০ লাখ ফলোয়ার। মালয়েশিয়া, কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় তাঁর তুমুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় বিনোদন জগতের একজন তারকা হিসেবে খ্যাতি আছে তাঁর।

তাছাড়া মুসলিম নারীদের ফ্যাশন মডেল হিসেবেও কাজ করেন তিনি। পরিবারের মধ্যে আয়ানা-ই প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। কৈশোর না পেরোতেই মুসলিম হিসেবে নতুন জীবন শুরু করতে পেরে তিনি মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তাঁর ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর ভাই আদিয়ান মুন ইসলামগ্রহণ করেন।

ইনস্টাগ্রামে নিজের ইসলামগ্রহণের গল্প বর্ণনা করেন আয়ানা। একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, মাত্র ৭-৮ বছর বয়সে তিনি ইসলাম সম্পর্কে জানতে পারেন। তখন ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তখন পর্যন্ত আমেরিকা সম্পর্কে জানা থাকলেও ইরাক সম্পর্কে জানাশোনা ছিল না।

ওই সময় তিনি প্রথম বারের মতো ইন্টারনেট ব্যবহার সুযোগ পান। ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করে ইরাকের অবস্থান ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা চেষ্টা করেন। তখনই প্রথম ইরাকের অধিকাংশ মানুষ ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করেন বলে জানতে পারেন। আয়ানা জানতে পারেন যে ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম।

ইসলাম মানুষকে সুন্দর জীবন গঠনের নির্দেশনা দেয়। এছাড়াও অনুসন্ধানকালে হিজাবি নারীদের অনেক ছবি দেখতে পান। নারীরা নিজেদের মুখ ঢেকে রাখছে দেখে তিনি কিছুটা বিস্মিত হন। অবশ্য তার দাদা তখন তার সঙ্গে ইসলাম ও হিজাব নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রথম দিকে হিজাবের বিষয়টা তার কাছে অযৌক্তিক মনে হয়। এরপর থেকে নারীর মুখ ও সৌন্দর্য ঢেকে রাখার মূল কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন। ইসলাম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে তাঁর মত পরিবর্তন করেন এবং ইসলামী জীবনাচারে মুগ্ধ হন। তখনই তিনি ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

এরপর থেকে তাঁর পরিচিত বিভিন্ন সেলিব্রেটি ও ব্যক্তিদের সঙ্গে ইসলাম সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান শেয়ার করেন। তখন তিনি ইসলামের জীবনবিধান ও অন্যান্য বিষয়াবলি জানার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন।