এক মাস আগে বিদেশ থেকে এসে বিয়ে করেছিলেন পদ্মা সেতুতে নিহত ফজলু

পদ্মা সেতুতে ঘুরতে গিয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন দুই বন্ধু মো. ফজলু (২৫) ও মো. আলমগীর হোসেন (২৫)। এদের মধ্যে ফজলু নববিবাহিত ছিলেন। এক মাস আগে তিনি বিয়ে করেন। কিন্তু স্ত্রীর মেহেদির রঙ মোছার আগেই চলে যেতে হলো তাকে।

ঢাকার নবাবগঞ্জ এলাকার এই দুই তরুণ রোববার সন্ধ্যায় পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে এলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোঘণা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যন্ত্রাইল হরিস্কুল গ্রামের ফজলু বিদেশে থাকতেন। এক মাস আগে দেশে এসে নবাবগঞ্জের কাউর গ্রামের মিম নামে এক তরুণীকে বিয়ে করেন তিনি।.

আর আলমগীর এলাকায় মোটরসাইকেল মেরামতের কাজ করতেন, তার বাড়ি উপজেলার পশ্চিম সমসাবাদ এলাকায়। তার বাবা-মা দুজনেই অন্ধ। তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব ছিল আলমগীরের হাতেই।

সোমবার দুই বন্ধুর লাশ তাদের গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। তাদের একনজর দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন।
ফজলুর লাশ তার গ্রামে পৌঁছামাত্রই স্বজনদের বুকফাটা আহাজারি শুরু হয়। জন্মদাতা মা অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। স্ত্রী মিম কেঁদেই চলেছেন। কোনো সান্ত্বনাই তাকে শান্ত করতে পারছে না।

অপরদিকে পশ্চিম সমসাবাদে আলমগীরের লাশ নেওয়া হলে স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠে। এ সময় এলাকাবাসী বলাবলি করছিলেন- ‘অন্ধ বাবা-মাকে এখন কে খাওয়াবে’। কারণ আলমগীরে অন্য তিন ভাই বাবা-মাকে ভরণপোষণ দেয় না। আলমগীর মোটরসাইকেল মেকার হিসেবে অন্যের দোকানে চাকরি করে বাবা-মাকে খাওয়াতেন। মাকে বলেছিলেন- বাড়িতে নতুন ঘর দিয়ে বিয়ে করবেন, কিন্তু ঘর আর দেওয়া হলো না।