চলন্ত ট্রাকে তরুণীকে ধ.র্ষ.ণের পর হ.ত্যা, অবশেষে চাচা-ভাতিজা গ্রে.ফ.তার

চলন্ত ট্রাকে তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা, অবশেষে চাচা-ভাতিজা গ্রেফতার

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীগামী মহাসড়কের পাশে গত বছরের ২ ডিসেম্বর সকালে আলাউদ্দিননগর মমিনপুর এলাকায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা উদ্ধারকৃত সেই তরুনীর পরিচয় মিলেছে।

প্রেমঘটিত কারনে পূর্ব পরিকল্পনায় ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলা থেকে সুকৌশলে ডেকে এনে অষ্টাদশী সেই তরুনীকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। হত্যার মোটিভসহ পুরো কাহিনী উদ্ধারসহ প্রায় ৫ মাস পর ধর্ষক ট্রাক চালক চাচা ও আপন ভাতিজাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে চাচা আছেন লালমনিরহাট জেল হাজতে এবং ভাতিজাকে পাঠানো হয়েছে যশোর শিশু শোধনাগারে। হত্যার কাজে ব্যবহারকৃত ট্রাকটিও জব্দ করে ত্রিশাল থেকে লালমনিরহাটে আনার কথা জানান পুলিশ।

আজ সোমবার (২৬ এপ্রিল) লালমনিরহাটের বি-সার্কেল এএসপি’র কার্যালয়ে হাতীবান্ধায় নয়তো পাটগ্রাম থানায় সাংবাদিকদের নিয়ে ‘মিট দ্যা প্রেস’ একটি বিবৃতিমূলক সাক্ষাতকার আয়োজন করতে পারেন এমন আভাস পাওয়া গেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ময়মিনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার জনৈক ট্রাক চালকের প্রেমে পড়েন একই এলাকার অষ্টাদশী এক তরুণী। নিজ এলাকায় সেই তরুণীর নাম হামিদা আক্তার। নাম বদলে কলগার্ল হিসেবে তার আলাদা পরিচিতি আছে। কোথাও সুরমা আবার কোথাও নন্দিনী নামে পরিচিত।

এমন পরিস্থিতিতে ট্রাক চালক হয়ে যান দিশেহারা। আগের দুই স্ত্রী ও একাধিক সন্তান থাকায় নারী লোভী ট্রাক চালক সুন্দরী হামিদাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। তবুও তরুণীর চাপ বিয়ে করতেই হবে। বিয়ের চাপ সামলাতে না পেরে প্রেমিকা হামিদাকে অন্য কোথাও নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন সেই ট্রাক চালক।

গত বছর পহেলা ডিসেম্বর ত্রিশাল থেকে রংপুরে আসতে বলা হয় সেই তরুণীকে। ট্রাক চালক ও তার ভাতিজা (১৫) ট্রাক ভাড়ার উসিলায় আগের দিন আসেন রংপুরে। তার আগে কুটকৌশল অনুযায়ী ১৫ দিন আগের থেকে তরুণীকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে নিষেধ করেন প্রেমিক ট্রাক চালক। অন্য একজনের ফোন দিয়ে তরুণীর সাথে যোগাযোগ চলতো নিয়মিত।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বিয়ের কথা বলে রংপুরে আসতে বলা হয় তরুণীকে। ওইদিন বিকেলে রংপুরের দেয়া ঠিকানায় চলে আসেন সেই তরুণী। এরপর খাওয়া দাওয়া করে ট্রাকে উঠে বুড়িমারীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন ট্রাক চালক, ট্রাক চালকের ভাতিজা ও হামিদা। পথিমধ্যে বড়খাতা বাউরা বাজারের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরির পর চাচা-ভাতিজা কোন একসময় গণধর্ষণ করেন তরুণীকে। তর্কবিতর্ক বাক-বিতন্ডা করার এক পর্যায়ে ট্রাকে থাকা রড দিয়ে তরুনীর মাথায় সজোরে আঘাত করেন ট্রাক চালক।

ট্রাকের উপরে তরুনীর মৃত্যু নিশ্চিত হলে পরে বুড়িমারী মহাসড়কের পাশে লাশ ফেলে পালিয়ে যান ধর্ষক ও হত্যাকারী আপন চাচা-ভাতিজা।