চিলমারীতে স্বামীর বাড়ীতে স্থান মিলছে না অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর

একই প্রতিষ্ঠানে চাকুরির সুবাধে পরিচয়।এরপর দু’জনার মধ্যে চেনাজানা ও প্রেমে জড়িয়ে পড়া। ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে হয় বিয়ে। বিয়ের পর ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন সংসার করে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ঢাকায় ফেলে রেখে গা ঢাকা দিয়ে বাড়ীতে এসে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় সাজু মিয়া নামে এক যুবক।

সাজু মিয়া চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের দফাদার পাড়া এলাকার আমির উদ্দীনের ছেলে। নিরুপায় হয়ে গর্ভের সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবি নিয়ে সাজুর বাড়ীর উদ্দেশ্যে এসে কোথাও স্থান পাচ্ছে না ললিতা নামের এক গর্ভবর্তী স্ত্রী।

জানা গেছে,কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলাধীন রানীগঞ্জ ইউনিয়নের দাফাদার পাড়া এলাকার আমির উদ্দিনের ছেলে সাজু মিয়ার সাথে ঢাকায় এক প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর সুবাদে পরিচয় হয় সাভার এলাকার কৃষ্ণ শাহার মেয়ে ললিতা শাহার।

পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেম অতঃপর ইসলাম ধর্ম গ্রহনের পর ললিতা শেরপুর এলাকার আবু জাহের আলী খান এর মেয়ে হিসাবে মোছাঃ ললিতা খান পরিচয়ে সাজু মিয়ার সাথে মুসলিম রীতি মোতাবেক বিবাহ নিবন্ধন হয় প্রায় ৬বছর আগে।

বিয়ের পর থেকে তারা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ঘর সংসার করতে থাকেন। কিন্তু হঠাৎ মাস তিনেক আগে সাজু মিয়া ললিতাকে গাজীপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় রেখে গ্রামের বাড়ি চিলমারীতে চলে এসে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। অবশেষে কোন উপায়ন্তর না পেয়ে ললিতা স্বামীর ছবি,বিবাহ রেজিস্ট্রির কাগজ ও জাতীয় পরিচয় পত্র নিয়ে শুক্রবার স্বামী সাজু মিয়ার বাড়িতে চলে আসে।

সেখানে আসলে বাড়ির লোকজন তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে বের করে দেয় বলে জানা যায়। শনিবার রাতে স্থানীয় সাংবাদিকের সহায়তায় ললিতা চিলমারী হাসপাতালে ভর্তি হন। গর্ভের সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবি নিয়ে আসা গর্ভবর্তী মোছা. ললিতা খান বলেন,একই অফিসে চাকরীর সুত্রে প্রায় এক দেড় বছর প্রেমের পর সাজু আমাকে বিয়ে করে ২০১৬ সালে।

তখন থেকে বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে ঘর সংসার করে আসছে তারা। প্রায় ৭মাস আগে আমার গর্ভধারন হয়। হঠাৎ গত তিন মাস আগে সাজু মিয়া আমাকে কিছু না বলে ভাড়া বাসায় রেখে চিলমারী চলে আসে এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। নিরুপায় হয়ে আমি খোঁজ নিতে নিতে আমার গর্ভের সন্তানের পিতার পরিচয়ের দাবি নিয়ে চিলমারীতে আসি।