তু.লে নিয়ে নয়, প্রেম করে বিয়ে করেছি (ভিডিও)

তুলে নিয়ে নয়, প্রেম করে বিয়ে করেছি (ভিডিও)

‘পটুয়াখালীতে কলেজ ছাত্রকে তুলে নিয়ে তরুণীর বিয়ে’ এমন শিরোনামে একটি ভিডিও ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ওই তরুনির নাম ইশরাত জাহান পাখি। পটুয়াখালী সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী নাজমুল আকনকে তুলে নিয়ে জোর করে বিয়ের অভিযোগ উঠেছে মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থী ওই তরুণীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ইশরাত জাহান পাখি মির্জগঞ্জ উপজেলার গাজিপুর গ্রামের মৃত আউয়ালের মেয়ে ও ভুক্তভুগি নাজমুল একই উপজেলার জালাল আকনের ছেলে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইসরাত জাহান পাখি নয়া শতাব্দীকে বলেন, ‘আমার সাথে নাজমুলের দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। আমি নাজমুলকে তুলে নিয়ে নয় বরং প্রেম করে দুজনের সম্মতিতে বিয়ে করেছি। আমি ঢাকা বাঙলা কলেজে লেখা পড়া করি। পাশাপাশি একটি এনজিওতে চাকরি করি। নাজমুল আমকে বিয়ের প্রোলভন দেখিয়ে আমার সাথে সম্পর্ক গভির করে তোলে। আমরা ঢাকাতে স্বামি-স্ত্রী পরিচয়ে একসাথে দুই বছর ছিলাম। ওকে বিয়ের কথা বললেই ও আজ নয় কাল বলে কথা অন্য দিকে নিয়ে যেত। তবে এই কিছুদিন আগে ও আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়। ওর সাথে আমি আমার পরিবারের অনেকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছি। কিন্তু আমি যখনই ওর পরিবারের কারো সাথে কথা বলতে চাইতাম ও ব্যাপারটি এড়িয়ে যেতো।

পাখি বলেন, আমার বাবা নেই, আমার মা ব্রেইন স্ট্রোকের রুগি। আমি এত চাপ সহ্য করতে পারতেছি না। ও আমার নামে বলেছে আমি না-কি ওকে পটুয়াখালী লঞ্চঘাট থেকে তুলে নিয়ে বিয়ে করছি। আসলে আমরা বিয়ে করেছি ঢাকার রায়ের বাজারে বসে। তাহলে আমি কিভাবে ওকে পটুয়াখালী লঞ্চঘাট থেকে তুলে নিয়ে বিয়ে করলাম! একই মানুষ এক সাথে দুই জায়গায় কীভাবে থাকতে পারে?

ড্যান্স বারের ‘গোপন রুম’ থেকে ১৭ তরুণী উদ্ধার!
পাখি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ভিডিওটি দেখা গিয়েছে সেটির মূল কারণ হলো, নাজমুল পঞ্চাশ হাজার টাকা কাবিন করে বিয়ে করতে চেয়েছিল। কিন্তু সবাই বলেছে পাঁচ লাখ টাকা কাবিনের কথা। আর সেই ব্যাপারে নাজমুল রাজি না হয়ে উঠে যেতে চেয়েছিল তাই ওর ঘাড় ধরা হয়েছে। ও আমার নামে যে মামলাটি করেছে সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। ও আরো অনেক মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে যা আমি বিয়ের পরে জানতে পেরেছি। আমি কয়েকদিন ধরে আমার শশুর বাড়ি অবস্থান করছি। কিন্তু এই জায়গাতে আমি নিরপত্তা হীনতায় ভুগছি। আমাকে এখানের সবাই মানষিক চাপ প্রয়োগ করছে। আমার থেকে জোর করে কাবিনের কাগজ ও আরো কিছু প্রমান জোর করে কেরে নিয়েছে আমার শশুর বাড়ির লোকজনেরা। তাই আমি বাধ্য হয়ে আমার শশুর বাড়ি ছেড়ে বের হয়ে এসেছি। আমি আমার বাড়ি যাবো না-কি কোন আত্বীয়-স্বজনের বাসায় যাবো আমি ভেবে পাচ্ছি না।

এ ঘটনার ভুক্তভুগি নাজমুল আকন জানান, পটুয়াখালী সরকারী কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় গত কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে বার বার প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল ইশরাত জাহান পাখি। তাতেকোন ভাবেই রাজি হননি নাজমুল। এক পর্যায়ে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়েও বার বার নক করা হয়েছিল। কিন্তু নাজমুল তার জায়গায় অটল ছিল। এক পর্যায়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখ সাত থেকে আটজনের অপরিচিত লোকজন শহরের লঞ্চঘাট এলাকা থেকে নাজমুলকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে যায়। অজ্ঞাত এক স্থানে নিয়ে জোর করে কাবিননামায় একটি স্বাক্ষর রেখে দেয়। নাজমুল জানায়, এসময় আমাকে জোর করে মুখে মিষ্টি খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়। যা ভিডিওতে দেখা যায়। পরে সেখান থেকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এর কিছুদিন পরে জোর করে মিষ্টি খাওয়ানো আর স্বাক্ষর নেয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হয়।

নাজমুল জানান, ‘এতে আমি মানষিকভাবে ভেঙ্গে পড়ি। এক পর্যায়ে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করি। বর্তমানে আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছি। বাড়িতেও যেতে পারছি না। ইশরাত গত কয়েকদিন ধরে আমার বাড়ীতে অবস্থান করে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করায় আমার মা বাবাও সেখানে থাকতে পারছে না। সামাজিকভাবে আমি হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছি। সামনে আমার পরীক্ষা, ঠিকভাবে পড়াশোনাও করতে পারছি না। ক্রমশই আমি মানষিকভাবে ভেঙ্গে পড়তেছি। আমার শিক্ষা জীবন এখন হুমকীতে রয়েছে।

ঘটনাটির তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানান, পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান।

উল্লেখ্য গত ৩ অক্টোবর পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ইশরাত জাহান পাখিসহ আরো অজ্ঞাত ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ ও বিয়ের উদ্দেশ্যে জোড় করে স্বাক্ষর রাখার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে পটুয়াখালী সরকারী কলেজ শাখার ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. নাজমুল আকন।