দোতলায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ থেকেই আ গুনের সূত্রপাত

ঢাকার সদরঘাট থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর আগুন লাগে। এরপর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো লঞ্চে। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল এ প্রশ্নের এমন তথ্যই দিয়েছেন আগুনে পুড়ে যাওয়া নৌযানের মালিক হাম জালাল শেখ।

এই ভয়াবহ অগ্নি দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৮ জন দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। শতাধিক যাত্রী দগ্ধ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ইতোমধ্যে দগ্ধ যাত্রীদের দেখতে গিয়ে ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অভিযান-১০ লঞ্চে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছিল। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মালিক হাম জালাল শেখ।

শুক্রবার দুপুরে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, লঞ্চের এক সুপারভাইজার আনোয়ার ভোর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আমাকে ফোন করে প্রথম আগুনের খবর দেয়। তার ঠিক ১০ মিনিট আগে আগুন লাগে।

মালিক হাম জালাল জানান কর্মচারী আনোয়ার বলেন, ‌‌‘প্রথমে দোতলায় একটা বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়, সঙ্গে সঙ্গে কেবিনে আর লঞ্চের পেছনের বিভিন্ন অংশে আগুন লাগে। তারপর তৃতীয় তলার কেবিন ও নিচতলায় ছড়িয়ে পড়ে আগুন। কিছু যাত্রীসহ পানিতে নামছি। লঞ্চ ভেসে গেছে। লঞ্চ ভেসে ওপারে যাওয়ার পর কিছু যাত্রী নেমে যায়।’

যান্ত্রিক ত্রুটি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে লঞ্চ মালিক হাম জালাল বলেন, ওই লঞ্চে অন্তত ২১টি অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ছিল, কিন্তু এত দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে যে সময় পাওয়া পায়নি। কিন্তু লঞ্চে কোনো যান্ত্রিক ক্রুটি ছিল না, ত্রুটি থাকলে নামাতে পারতাম না। মাত্র ২ মাস হলো জাপানি নতুন (ডাইহাতসু) ইঞ্জিন সংযোজন করেছি।

তিনি দাবি করেন, ইঞ্জিনে আগুন লাগলে কখনো পুরো জাহাজে আগুন ছড়িয়ে পড়ে না। বিকট শব্দে দোতলা থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ইঞ্জিনের দিকে ও কেবিনের দিকে।

হাম জালাল এম ভি অভিযান-১০, ৩ ও ৫ লঞ্চের মালিক। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমার কোনো লঞ্চের ইন্সুরেন্স নেই। আমার কেন কারো লঞ্চেই ইন্সুইরেন্স নেই, মূলত ইন্সুরেন্স লাগে না।

বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ৩টার দিক ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানা গেছে। এছাড়া দগ্ধ হয়েছেন প্রায় শতাধিক। তারা ঢাকা, বরিশালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।