The Latest Technology Updates Here

পারাবতের ৩ বগি ভস্মীভূত, ৪ ঘণ্টা পর যোগাযোগ স্বাভাবিক

সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের পাওয়ারকার থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশনের শমশেরনগর ও মনু রেলস্টেশনের মধ্যবর্তী ডাকবেল এলাকায় এ ঘটনার পর রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এর ৪ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিকে আগুনের লেলিহান শিখায় ট্রেনের ৩টি বগি ভস্মীভূত হয়েছে। তবে আগুনে কোনো প্রাণহানির ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট আগুন লাগার পর দেড় ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডের কারণে পারাবত ট্রেনসহ অন্যান্য স্টেশনে ট্রেন আটকা পড়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

এ ঘটনায় মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ৭ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সুখেশ দাশ জানান, সিলেট যাওয়ার উদ্দেশ্যে শ্রীমঙ্গল স্টেশন থেকে ট্রেনের ‘ঙ’ বগিতে উঠি। ট্রেনটি শমশেরনগর রেলস্টেশন অতিক্রম করার পরই টয়লেটের পাশ থেকে বিকট শব্দ শুনতে পাই। পরে আগুন জ্বলতে দেখতে পাই। ট্রেনের বগিতে আগুন লাগার খবর মুহূর্তের মধ্যে ট্রেনের ভেতরে যাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে এ সময় যাত্রীরা চিৎকার শুরু করেন। যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া যাত্রীরা যে যেদিকে পারেন ছোটাছুটি করতে থাকেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজ খান বলেন, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। ভয়ে লাফ দিতে গিয়ে ৪-৫ জন আহত হন।

স্থানীয়রা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেন দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে শমশেরনগর রেলস্টেশন অতিক্রম করে। কিছুক্ষণ পরই ট্রেনের জেনারেটরের বগিতে আগুনের সূত্রপাত দেখা যায়। পরবর্তীতে তেলের ট্যাংকি থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এরপর প্রায় ৪ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর যাত্রীদের চিৎকারে ট্রেনটি থামানো হয়। তখন যাত্রীরা দ্রুত ট্রেন থেকে নেমে নিরাপদে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

স্থানীয় লোক ও যাত্রীদের সহযোগিতায় ট্রেনের কর্তৃপক্ষ আগুন লাগা ৩টি বগি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরে ট্রেনের জেনারেটর বগি ও পার্শ্ববর্তী যাত্রীবাহী দুইটি বগিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। খবর পেয়ে ঘটনার প্রায় ১ ঘণ্টা পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় কমলগঞ্জের ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও পরে মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল থেকে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে ৪টি অগ্নিনির্বাপক দল এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় ট্রেনের ৩টি বগি ব্যতীত আর কোনো বগিতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার পর সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশনে প্রায় ৪ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। খবর পেয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। দীর্ঘসময় অতিবাহিত হওয়ায় ট্রেনের যাত্রীরা নিজ নিজ খরচে সিলেটসহ বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছান।

আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচালক মো. ইসমাইল বলেন, ট্রেনের পাওয়ারকার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ট্রেন থামানোর পর দেখা যায় চাকার মধ্যে আগুন ও পরে তেলের ট্যাংকিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শমশেরনগর স্টেশনমাস্টার মো. জামাল উদ্দীন বলেন, ট্রেনটি ১২টা ৪৫ মিনিটে শমশেরনগর স্টেশন ছেড়ে যায়। এ ঘটনার পর সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি লংলা স্টেশনে ও চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি শ্রীমঙ্গলে আটকা পড়ে।

ভানুগাছ স্টেশনমাস্টার কবির আহমদ বলেন, আগুন পুরোদমে নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিকাল সাড়ে ৪টায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন মৌলভীবাজারের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ হারুন পাশা বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কি কারণে আগুন লাগে তা এখনো জানা যায়নি।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান আগুন নিয়ন্ত্রণ আনার ক্ষেত্রে স্থানীয় লোকদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ঘটনায় মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল হককে আহবায়ক করে ৭ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়।

Comments are closed.