প্রথমবার বিসিএস দিয়েই সৌরভের ১ম স্থান দখল করার গল্প

ক্যাম্পাসে সকলেই তাকে চিনে ‘ক্যারিশমাটিক’ বিতার্কিক হিসেবে। বিতর্ক করেছেন ঢাকা শহরের বিভিন্ন মঞ্চে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হবার পর নিজেকে দেখতে চেয়েছিলেন গবেষক হিসেবে ।

সে লক্ষ্যে কাজও করেছেন। তার পাশাপাশি চলছিল সাংস্কৃতিক কর্মকা’ণ্ড। এর মধ্যেই ৩৮তম বিসিএস বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি।

পরীক্ষায় সৌরভ অধিকারী শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। অথচ সৌরভ কখনো ভাবেননি বিসিএসকে বেছে নেবেন ক্যারিয়ার হিসেবে।

তার বন্ধুরা যখন বিসিএস এর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন হঠাৎ করেই তার মনে হলো, ১বার চেষ্টা করতে দোষ কোথায়? এই ভাবনা থেকেই তিনি বিসিএস-এর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।

এ ব্যাপারে সৌরভ অধিকারী বলেন, ‘প্রথমে আমার বিসিএসে ইচ্ছে ছিল না। তাড়াছা আমি যে চাকরি করছিলাম তাতে ক’ষ্ট বেশি, কিন্তু পারিশ্রমিক কম ছিল। তাই সাতপাঁচ ভেবে; বন্ধুদের দেখে ২০১৭ সালে আবেদন করি ।’

প্রস্তুতি কীভাবে নিয়েছেন? এই প্রশ্নের জবাবে সৌরভ অধিকারী বলেন, ‘প্রথমেই আমি পুরোনো চাকরিটা ছেড়ে দেই। আমি আগে থেকেই গণিত ও ইংরেজিতে ভালো ছিলাম। অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকতে এটি খুবই কাজে লেগেছে।’

তবে প্রতিবন্ধকতাও কম ছিলো না। বাংলা সাহিত্য, সাধারণ জ্ঞান, ভূগোলে পিছিয়ে ছিলাম। সুতরাং সেই বিষয়গুলোতে বেশি জো’র দেই। মাত্র ৩ মাসের প্রস্তুতি নিয়ে প্রিলিতে টিকে যাওয়ার পর আমার মনোবল বেড়ে যায়। নতুন উদ্যোমে নিতে থাকি লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি।

Related Posts
1 of 21

সৌরভ অধিকারী আরো বলেন, ‘আমি ধাপে ধাপে নিজেকে তৈরি করেছি। লিখিত পরীক্ষায় পাশ করার পর ভাইভার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি।’ আমাদের দেশে বিসিএস সোনার হরিণ।

বিসিএস পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার প্রতিবছর স্বপ্নের জাল বোনেন। দরিদ্র অভিভাবকেরা অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে থাকেন সন্তানের দিকে। তাদের স্বপ্ন থাকে সন্তান বিসিএস ক্যাডার হয়ে সংসারে সুখের দিন ফিরিয়ে আনবে, গড়বে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ।

সৌরভ আগামীর বিসিএস প্রত্যাশিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘গণিত ও ইংরেজির জন্য ভালো প্রস্তুতি নিতে হবে। এইখানে কোন হেলাফেলা করা যাবে না। সিলেবাস সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা রাখতে হবে। সিলেবাস ধরে ধরে প্রতিটি বিষয় পড়তে হবে।

অনেকেই বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে এবং সেই আলোকে প্রস্তুতি নেন। তবে সকলের জেনে রাখা উচিৎ যে, প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পর লিখিত পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকে না।

সৌরভ বলেন, ‘রুটিন করে পড়লে একসাথে প্রিলিমিনারি ও রিটেনের প্রস্তুতি হয়ে যায়।’ বিসিএস যেহেতু একটি বড় এবং সম্প্রসারিত বিষয়, তাই সব বিষয়ে কমবেশি জ্ঞান থাকতে হবে।

সাধারণত সবার সব বিষয়ে জ্ঞান থাকে না। যাদের আছে তারাই এই বৃহৎ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে। এজন্য আত্মবিশ্বাস বড় ভূমিকা রাখে। যত বড় প্রতিযোগিতাই হোক, কনফিডেন্স ধরে রেখে সেভাবে পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবেই।

২০১৭ সালের ২০ জুন, ৩৮তম বিসিএস এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরকারি কর্ম কমিশন বা PSC। মোট ২0২৪টি পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য ৩,৪৬,৪৪০ জন প্রার্থী আবেদন করেন।

তারপর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া ৯,৮৬২ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা হয়। সর্বশেষ মাত্র ২২০৪ জন প্রার্থীকে বেছে নেওয়া হয়েছে নিয়োগের জন্য। এই পরীক্ষায় সৌরভ অধিকারী শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন।

সৌরভ অধিকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগাতে চান। তার পরবর্তী চিন্তাভাবনা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা ও বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন জ্ঞানভাবনা তৈরি করা।
@সৌরভ অধিকারী, ৩৮তম বিসিএস।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More