প্রেমিকার সঙ্গে অপ্রীতিকর অবস্থায় দেখে শাসন, ক্ষোভে ‘হত‌্যার’ পরিকল্পনা

ঢাকার সাভারে এক কলেজ প্রভাষককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত বলে অভিযোগ উঠেছে। বাইরে থেকে ক্রিকেট স্ট্যাম্প সংগ্রহ করে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে ওই শিক্ষার্থী মারধর করেছেন বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। কলেজ অধ‌্যক্ষ সাইফুল হাসানও একই দাবি করেছেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে কাউকে না পাওয়ায় তার পরিবারের কোনও মন্তব্য মেলেনি।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকায় নিহতের সহকর্মী, শিক্ষার্থী, প্রত্যক্ষদর্শী, স্কুলের স্টাফ ও স্থানীয়দের সাথে কথা হয় রাইজিংবিডি প্রতিবেদকের। এসময় পূর্বপরিকল্পিত ক্ষোভে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম জিতু শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে মারধর করেছে- এ বিষয়টি পরিষ্কার হয়।

এসব বিষয়ে হাজী ইউনুস আলী কলেজের সামনের মার্কেটের মালিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ইমান উদ্দিনের সাথে একান্তে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।

ইমান উদ্দিন বলেন, ‘একজন শিক্ষককে এভাবে হত্যার বিষয়টি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা কেউ মেনে নিতে পারিনি। কিন্তু আসল ঘটনা এখনও কলেজের শিক্ষকরা বলছেন না। তারা অনেক কিছু গোপন করছেন। তবে আস্তে আস্তে সব বেরিয়ে আসবে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী জিতুর বাবা উজ্জ্বল হোসেনের ব্যবসায়িক পার্টনার মাজেদ নামে এক ব্যক্তি। তাদের মূলত হোটেল ব্যবসা আছে। সেই মাজেদের একজন শ্যালিকার ছোট বোন এই কলেজে প্রথম বর্ষে পড়ে। তার সাথে অভিযুক্ত জিতুর অনেক আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক। কিছুদিন আগেও স্কুলের একটি কক্ষে জিতু ও মেয়েকে অপ্রীতিকর অবস্থায় পাওয়া যায়। তখন শিক্ষক উৎপল তাদের শাসিয়ে দেন। এমনকি ওই শিক্ষক মেয়ের পরিবারের কাছে ফোন করে সব জানিয়ে সতর্ক করেও দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে মেয়েটা অভিযুক্ত জিতুকে এসব বিষয় জানালে সে ক্ষুব্ধ হয়েই ওই স্যারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।’