বাড়ির মালিককে ফাঁসাতে টাকার বিনিময়ে হত্যা করা হয় আরাফকে

বাড়ির মালিক নুরুল আলম মিয়াকে ফাঁসাতে টাকার বিনিময়ে শিশু আব্দুর রহমান আরাফকে হত্যা করেন নাজমা বেগম নামে এক ভাড়াটিয়া। চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার নাজমা বেগম কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার তাজুনুর ইসলাম প্রকাশ বাবুলের স্ত্রী।মঙ্গলবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন।

তিনি জানান, গ্রেফতারের পর নাজমা বেগমকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। জবানবন্দি নেয়া শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এ ঘটনায় জড়িত বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জবানবন্দিতে নাজমা বেগম জানান, বাড়ির মালিক নুরুল আলম মিয়ার সঙ্গে ফরিদ নামে একজনের দ্বন্দ্ব রয়েছে। সেই দ্বন্দ্বের জেরে নুরুল আলম মিয়াকে ফাঁসাতে নাজমা বেগমকে বেছে নেন ফরিদ। অর্থের বিনিময়ে সদ্য হাঁটতে শেখা শিশু আরাফকে হত্যার প্রস্তাব দেন। ঋণগ্রস্ত নাজমা বেগমও পারেননি অর্থের লোভ সামলাতে। হত্যা করেন শিশুটিকে।

তিনি আরো জানান, রোববার বিকেলে বাড়ির নিচতলায় খেলছিল শিশু আরাফ। নাজমার ছেলে হাসান ওই বাড়ির দারোয়ান। তার কাছ থেকে চাবি নিয়ে আরাফকে ছাদের পানির ট্যাংকে ফেলে হত্যা করেন নাজমা বেগম।

বাড়ির মালিক নুরুল আলম মিয়া বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমি আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী আমি। ফরিদ বিএনপি’র কাউন্সিলর প্রার্থী ইয়াছিন চৌধুরী আছুর লোক। এ পরিপ্রেক্ষিতে তারা আগে থেকেই আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করছিল। এখন নতুন ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে শিশুটিকে হত্যা করিয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

এর আগে রোববার বিকেলে নিখোঁজ হয় শিশু আব্দুর রহমান আরাফ। তিন ঘণ্টা পর রাতে বাড়ির ছাদের পানির ট্যাংক থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।