বিয়ের কার্ডে টয়লেটের ছবি, তাই বিবাহ বাসর ‘নির্মল’

অক্ষয় কুমার-ভূমি পেডনেকর অভিনীত ‘টয়লেট এক প্রেম কথা’ সিনেমাটিতে সদ্যবিবাহিতা শিক্ষিতা জয়া দলবেঁধে পাড়ার মেয়ে-বউদের সঙ্গে (লোটা-পার্টি) খোলা স্থানে প্রাতঃকৃত্য সারার লজ্জা থেকে মুক্তি পেতে শ্বশুরবাড়িই ছেড়ে দিয়েছিলেন৷ দীর্ঘদিন ধরে চাপিয়ে রাখা জগদ্দল ভাবনাটা কেবল সিনেমাতেই নয়,

উপড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকেও৷ মুর্শিদাবাদের বড়ঞা পঞ্চায়েত সমিতি কার্যালয়ে ঢোকার মুখেই পলাশ ঘোষের নির্মল চায়ের দোকান৷ ফেস্টুনে বড় বড় করে লেখা, ‘‘খোলা স্থানে মলত্যাগ করলে এই দোকানে চা পাওয়া যাবে না৷’’ চায়ের দোকান নির্মল করার উদ্দেশ্য কি জানতে চাওয়ায় তিনি বলছিলেন,

‘‘বিডিও, জয়েন্ট বিডিও পঞ্চায়েতকে নির্মল বানানোর জন্য প্রচুর পরিশ্রম করছেন৷ আমি তাই এভাবে প্রচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷ এতে অনেকে রাগারাগি করেছেন, অনেকে আবার নিজের ভুল বুঝতে পেরে শৌচালয়ও তৈরি করেছেন৷’’ বড়ঞাতেই ‘নির্মল সেলুন’-এ ছড়া লেখা ফেস্টুন ঝুলিয়েছেন এককড়ি দাস, ‘‘চুল দাড়ি কাটবো বারবার, যদি থাকে বাড়িতে শৌচাগার৷’’ তাঁর কথায়,

‘‘চুলদাড়ি কাটা যেমন সৌন্দর্যের ব্যাপার, তেমনি শৌচাগার থাকলেও পরিবেশ সুন্দর হবে, মেয়েদেরও ইজ্জত বাড়বে৷’’ এই বড়ঞার একঘরিয়া গ্রামেই ৩০শে আগস্ট নির্মল বিয়ে অনুষ্ঠিত হলো৷ এই বিয়ে ইতিমধ্যে সারা গ্রামে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ পাত্রী উচ্চমাধ্যমিক পাস সামসাল বেগম নিতান্ত দারিদ্র্যের কারণেই কলেজে যেতে পারেননি৷

কিন্তু তিনি সচেতন নাগরিক হিসেবে বিয়ের কার্ডে শৌচাগারের ছবি ছেপেছেন, সে জন্যই তাঁর বিয়েতে প্রশাসনিক স্তরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে তাঁর বিয়ে আক্ষরিক অর্থে ‘নির্মল শুভ বিবাহ’ হয়ে উঠেছে৷