Uncategorized

মায়ের চোখের সামনেই ঘাড় ভেঙে দীপ্তকে খুন করে পরকীয়া প্রেমিক

পরকীয়া প্রেমিক সেলুন কর্মচারী নয়ন শীলের (৩৫) সঙ্গে নিজ মায়ের অনৈতিক কাণ্ড দেখে ফেলার কারণে মায়ের চোখের সামনে ঘাড় ভেঙে গলা টিপে হত্যা করা হয় উজিরপুরের হারতার স্কুলছাত্র দীপ্ত মন্ডল (৯)-কে। হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ গুম করার কাজে সহায়তা করেন মা সিমা মন্ডল (২৬।)

এরপর তিনি ছেলের নিখোঁজের খবরও প্রচার করেন। আর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নানা ছক করেন সেলুন মালিক রতন বিশ্বাস (৩০) ও তার স্ত্রী ইভা বিশ্বাস (২৮)। তারা মরদেহটি ড্রামের মধ্যে লুকিয়ে অটোগাড়িতে করে নদীর পাশে নিয়ে বস্তায় ভরে নদীতে নিক্ষেপ করেন।পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর সমস্ত ঘটনার বিবরণ দিয়ে বুধবার (১ জুন) দুপুরে বরিশাল

সিনিয়ার চীফ জুড়িসিয়াল মেজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন চঞ্চল্যকার দীপ্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মা সিমা মন্ডল (২৬) ও ঘাতক নয়ন শীল (৩৫) ও তার ২ সহযোগী রতন বিশ্বাস ও তার স্ত্রী ইভা বিশ্বাস ।

উজিরপুর মডেল থানার ওসি আলী আর্শাদ ৪ আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।এদিকে স্কুলছাত্র দীপ্ত মন্ডল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বাবা দিপক মন্ডল বাদী হয়ে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক নয়ন শীল, মা সিমা মন্ডলসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে উজিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উজিরপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মমিন উদ্দিন জানিয়েছেন, তারা

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছেন। মামলার ক্লু উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছেন।বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র জানায়, পিরোজপুর জেলার স্বরুপকাঠী অতুল চন্দ্র শীলের ছেলে নয়ন শীল উজিরপুরের হারতা বাজারে রতন বিশ্বাসের সেলুনে কাজ করার সুবাদে হারতার কাজীবাড়ী এলাকার দিনমজুর দিপক মন্ডলের সঙ্গে সুসর্ম্পক তৈরি করেন।

এক পর্যায়ে তার সুন্দরী স্ত্রী সিমা মন্ডলের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন নয়ন শীল।ঘটনার দিন শুক্রবার (২৭ মে) হারতা মাছ বাজারের পাশে মন্দিরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান বার্ষিক র্কীতন দেখতে আসেন সিমা মন্ডল (২৬) ও তার ছেলে দীপ্ত মন্ডল (৯)। রাতে র্কীতন অনুষ্ঠানে গিয়ে হাজির হন নয়ন শীল। প্রেমিকা সিমা

মন্ডলকে তার দোকান ঘর সেলুনের মধ্যে নিয়ে অনৈাতিক কাণ্ড ঘটানোর সময় রাত প্রায় সাড়ে ১১ টার দিকে সেলুনের একটা দরজা দিয়ে শিশু দীপ্ত সেলুনের মধ্যে ঢুকে মায়ের সঙ্গে পর পুরুষের অনৈতিক কাজের দৃশ্য দেখে ফেলে। এটাই কাল হয়েছিল দীপ্তর জীবনে। সব কথা তার বাবাকে বলে দেবে এ ভয়ে তার মা সিমা মন্ডলের চোখের সামনে ঘাতক নয়ন শীল শিশু দীপ্ত মন্ডলের ঘাড় মটকে ভেঙে ফেলে গলা টিপে হত্যা করলে মা সিমা মন্ডল প্রেমিক নয়নকে হত্যাকাণ্ডে সহায়তা

করে নিজ বাড়িতে এসে ছেলে নিখোঁজের নাটক সাজান।ঘটনার ৪ দিন পর সোমবার (৩০ মে) রাতে নয়ন শীল তার সেলুনে রক্ত পরিষ্কারের সময় স্থানীয় জনতা দেখে ফেলায় পুলিশে খবর দিলে পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় নয়ন শিশু দীপ্তকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং দোকান মালিক রতন ও তার স্ত্রী মরদেহ গুমের ঘটনায় জড়িত

বলে জানালে রতনের স্বীকারোক্তি মতো বস্তাবন্দি অবস্থায় নদীর মধ্যে লুকানো শিশু দীপ্তর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটনের জন্য পুলিশের একধিক টিম মাঠে নামলে ঘটনায় দীপ্তর মা জড়িত বলে প্রমাণ পায় পুলিশ।

এরপর মঙ্গলবার (৩১ মে) রাতে তাকে পুলিশি হেফাজতে নিলে চোখের সামনে ছেলে হত্যার ঘটনা খুলে বলেন।উজিরপুর মডেল থানার ওসি আলী আর্শাদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, চাঞ্চল্যকর দীপ্ত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্ক। দীপ্তর মা সিমা মন্ডল সরাসরি হত্যান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ৪ জন আদালতে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে তারা কী বলেছেন তা তিনি জানাতে পারেন নি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.