মোবাইলে প্রেম করে তৃতীয় বিয়ে, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা

মোবাইল ফোনে পরিচয়। পরিচয় থেকে প্রেম ও পরে বিয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মণি আক্তারকে (২২) যৌতুকের দাবিতে পিটিয়ে হত্যা করে পাষণ্ড স্বামী মো. সুমন (৩৫)।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির দাঁতমারায় গত বছরের ৩১ অক্টোবর রাতে মণিকে হত্যা করতে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালায়। এ ঘটনায় ভুজপুর থানায় মণির বড় ভাই মো. আব্বাস বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন।

ওই মামলার সূত্র ধরে ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর র্যা ব ৭-এর হাটহাজারী ক্যাম্পের সদস্যরা গত শনিবার ভোরে নগরীর বায়োজীদ থানাধীন চন্দ্রনগর এলাকার কলাবাগানস্থ জেডএ আবাসিক এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেফতার করে।

সুমন ভুজপুর থানার বাদুরখিল এলাকার বোছা মিয়ার বাড়ির আবুল কাশেমের পুত্র। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার স্ত্রী মণি হত্যার বর্ণনা দেয়।
রোববার সকালে সুমনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যা ব-৭ হাটহাজারী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত এসপি মো. মাহফুজুর রহমান।

তিনি বলেন, সুমন প্রায় আট বছর আগে প্রথম বিয়ে এবং বছর দুয়েক আগে দ্বিতীয় বিয়ে করে। এদের প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে তাদের বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিত। এসব তথ্য গোপন করে সুমন বছর দেড়েক আগে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে মণি আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করে তাকে বিয়ে করে।

যদিও বছর না ঘুরতেই যথারীতি সুমন বিভিন্ন সময় যৌতুকের টাকার জন্য মণিকে শারীরিক নির্যাতন শুরু করে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সংসার টিকানোর লক্ষ্যে মণির পরিবারের লোকজন সুমনকে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেয় এবং ৫০ হাজার টাকা দেয়। এ ছাড়া স্বামীর যৌতুকের চাহিদা মেটানোর জন্য মণি নিজেও চা বাগানে চাকরি করত।