Uncategorized

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি গ্রেফতার

পাবনার ঈশ্বরদী রেল স্টেশনে ১৯৯৪ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে হামলা ও গুলিবর্ষণ করে হত্যাচেষ্টা করা হয়। বহুল আলোচিত সে মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং অস্ত্র মামলাসহ একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি জাকারিয়া পিন্টুকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

রবিবার (২৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।মঈন বলেন, ‘গত রাতে র‌্যাব-২ এর একটি আভিযানিক দল কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকা থেকে জাকারিয়া পিন্টু (৫০)কে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঈশ্বরদীতে ট্রেনে গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।’ কমান্ডার মঈন বলেন, ‘১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ট্রেনযোগে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পথে ঈশ্বরদী রেল স্টেশনে পৌঁছালে সন্ধ্যা আনুমানিক ৬.২০ মিনিটে শেখ হাসিনাকে বহনকারী বগি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

সে ঘটনায় পাবনার ঈশ্বরদীর জিআরপি থানায় বিষ্ফোরক দ্রব্যাদি আইনে ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১টি মামলা রুজু হয়। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে মামলা তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে প্রদান করা হলে সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল সর্বমোট ৫২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেন। এরমধ্যে পাঁচ জন আসামি মৃত্যুবরণ করায় তাদের ঐ মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। বাকি ৪৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

পরবর্তীতে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালের ৩ জুলাই গ্রেফতারকৃত জাকারিয়া পিন্টুসহ ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৩ জনকে ১০ বছর মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।’তিনি বলেন, ‘গ্রেফতার জাকারিয়ার নেতৃত্বে ঈশ্বরদীতে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, মারামারিসহ বিভিন্ন অরাজকতা চলতো। প্রথমে ১৯৮৮ সালে, পরবর্তীতে বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ততায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রুজু হয়। সেসব মামলায় গ্রেফতার এড়াতে সে এলাকা ত্যাগ করে ২০০৪ সাল থেকে ঢাকার মিরপুরে বসবাস শুরু করে। তার পরিবার ঢাকায় থাকলেও সে নিয়মিত ঈশ্বরদীতে যাতায়াত করতো। সে ২০১৫ সালে ঈশ্বরদীতে উপজেলা নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করে এবং পরাজিত হয়।’

Related Articles