সুদের টাকা না পেয়ে নারীকে গাছে বেঁধে নি.র্যা,তন (ভিডিও)

সুদের টাকা না পেয়ে নারীকে গাছে বেঁধে নি.র্যা,তন (ভিডিও)

কক্সবাজারের চকরিয়ায় সুদের টাকা আদায়ের জন্য এক নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) সকালে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে ৬ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পরে অভিযুক্ত এক যুবকের বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সম্পর্কিত খবর
ভাসানচরের উদ্দেশ্যে আরো ৫ শতাধিক রোহিঙ্গা
কক্সবাজার সৈকতে লাখো পর্যটকদের ঢল
কক্সবাজার সৈকতে মানুষ আর মানুষ
মামলায় আসামিরা হলেন- চকরিয়ার বরইতলি ইউনিয়নের হাফালিয়া কাটা ( মোড়াপাড়া ) এলাকার বাসিন্দা জহির আহম্মদের ছেলে শওকত আলম (২৮), তার বাবা জহির আহম্মদ (৫০) ও মা সুফিয়া খাতুন (৫০) এবং শওকতের স্ত্রী শাহিনা আক্তার (২৩)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকেও আসামি করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বিকেল পৌণে ৩টায় চকরিয়া উপজেলার বরইতলি ইউনিয়নের হাফালিয়া কাটা ( মোড়াপাড়া ) এলাকায় ঘটে। পরে বুধবার (১৭ মার্চ) ওই নারীকে নির্যাতনের একটি ভিডিওচিত্র ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে। ভুক্তভোগী ওই নারী (৩০) মোড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডের ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, গ্রামীণ জনপদের এক রাস্তার ধারে এক নারীকে তার পরিহিত শাড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখেছেন এক যুবক। এরপর ওই নারীর চুলের মুটি ধরে যুবকটি কিল-ঘুষি ও লাথি মারছেন। এক পর্যায়ের যুবকটির মাও লাঠি হাতে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তিনিও লাঠি দিয়ে ওই নারীকে গুঁতা মারতে থাকেন। নির্যাতনের সঙ্গে তারা ওই নারীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজও করছিলেন।

এসময় ঘটনাস্থলের আশপাশে উপস্থিত ২/৩ জন নারী এসে গাছের সঙ্গে বাঁধা ওই নারীকে উদ্ধারেরও চেষ্টা করেন। তারপরও থেমে থেমে চলছিল নির্যাতন।

ভিডিও চিত্রটির পুরো সময় জুড়ে দেখা গেছে, মায়ের ওপর নির্যাতন চালানোর সময় ওই নারীর দেড় বছর বয়সের এক শিশু সন্তানের করুণকান্না। সে সময় সে কেঁদে কেঁদে মাকে উদ্ধারের আকুতির জানায়। ভুক্তভোগী ওই নারী মুঠোফোনে জানান, তার স্বামী এক নলকূপ মিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন। বছরখানেক আগে তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি করান। এতে টাকার প্রয়োজন হওয়ায় প্রতিবেশী শওকত আলমের কাছ থেকে তিনি সুদের চুক্তিতে ৪ হাজার টাকা ধার নেন।

ওই নারী বলেন, ‘গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ধার নেওয়া ওই টাকার অংক সুদাসলে দাঁড়ায় ১০ হাজার টাকা। এরই মধ্যে আমি ৮ হাজার টাকা শওকত আলমকে পরিশোধ করেছি। বাকি ছিল আরো ২ হাজার টাকা ‘

বাকি ২ হাজার টাকা কথা মত শওকতের কাছে পরিশোধ না করায় তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালা হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী ওই নারী। নির্যাতিত নারী জানান, তার হাতে টাকা না থাকায় গত বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) কথা মত পাওনা পরিশোধ করতে পারেননি তিনি। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) পর্যন্ত শওকতের কাছে পাওনা পরিশোধের জন্য সময় চান তিনি। কিন্তু শওকত সময় দিতে রাজী হননা। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে তার ( ভুক্তভোগী নারী) ওপরে ক্ষেপে যান তিনি। পরে নির্যাতন শুরু করেন।

এ নিয়ে অভিযুক্ত শওকত আলমের মুঠোফোনে একাধিক বার চেষ্টা করেও সংযোগ বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। এদিকে, ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নির্যাতনকারী শওকত আলমসহ জড়িতদের শাস্তির দাবি করেছেন বরইতলি ইউপি চেয়ারম্যান জালাল আহমদ সিকদার।

স্থানীয় এই ইউপি চেয়ারম্যান জানান, তার ইউনিয়নের এক নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানোর খবর শোনার পর ঘটনাটি তিনি পুলিশকে অবহিত করেছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সুদের টাকার জন্য এ ধরনের বর্বর নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও করেন চেয়ারম্যান।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান জানান, এক নারীকে নির্যাতন চালানোর এক ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসার পরপরই অভিযান চালানো হয়। এসময় অভিযুক্ত নির্যাতনকারী ওই যুবক পালিয়ে গেলেও তার বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।