চুক্তি হতো ১০ লাখের, কিডনি নেওয়ার পর দিত ১ লাখ

গোপনে হতদরিদ্র ঋণগ্রস্ত ও নিরীহ মানুষকে টার্গেট করে কিডনি বিক্রিতে উদ্বুদ্ধ ও ৮-১০ লাখ টাকার চুক্তি করত। কিডনি নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা না দিয়ে বিমানবন্দরে তাদের হাতে মাত্র এক থেকে দুই লাখ টাকা ধরিয়ে দেয় অবৈধ কিডনি ক্রয়-বিক্রয় দালাল চক্র।

এ চক্রের দ্বিতীয় স্তরের মূল হোতা আব্দুল গাফ্ফার সরকার (৪৭) ও তার সহযোগী নূর আফতাবকে (৩৮) গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) মাছুম আহাম্মদ ভূঞা।

জয়পুরহাটে অবৈধ কিডনি ক্রয়-বিক্রয় দালাল চক্রের দ্বিতীয় স্তরের মূলহোতা আব্দুল গাফ্ফার সরকার ও তার সহযোগী নূর আফতাবকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। সোমবার রাতে আব্দুল গাফ্ফার সরকারকে ঢাকার মিরপুর থেকে ও তার সহযোগী নূর আফতাবকে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার আব্দুল গাফ্ফার সরকার জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার মোসলেমগঞ্জ-টাকাহুত গ্রামের মৃত বেলাল সরকারের ছেলে ও নূর আফতাব জেলার একই উপজেলার জয়পুর-বহুতি গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে।

এ নিয়ে এই দালাল চক্রের গ্রেফতারকৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৯ জনে। এর আগে গত ১৪ মে এ চক্রের ৭ জনকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।
গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে জয়পুরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল সোমবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ঢাকার মিরপুর থেকে আব্দুল গাফ্ফার সরকারকে গ্রেফতার করে।

তিনি ঢাকার মিরপুরের একটি গার্মেন্টসে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে চাকরির আড়ালে ঢাকায় অবস্থান করে গোপনে কিডনি ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। অপরদিকে একই রাতে তার সহযোগী নূর আফতাবকে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।গ্রেফতারকৃত এসব দালাল দীর্ঘদিন ধরে জয়পুরহাটসহ পার্শ্ববর্তী নওগাঁ, বগুড়া, গাইবান্ধা, দিনাজপুর জেলার পল্লী এলাকার নিরীহ, ঋণগ্রস্ত ও হতদরিদ্র অশিক্ষিত নারী-পুরুষদের মোটা অংকের টাকার লোভ দেখিয়ে তাদের কিডনি বিক্রি করতে বাধ্য করে আসছিলেন।