প্রেম করে বিয়ে কেন মেনে নিচ্ছে না পরিবার? স্বামীর গঞ্জনা শুনে আত্মহত্যার চেষ্টা গৃহবধূর

প্রেম করে বিয়ে কেন মেনে নিচ্ছে না পরিবার? স্বামীর গঞ্জনা শুনে আত্মহত্যার চেষ্টা গৃহবধূর

কিন্তু দুই পরিবার কেউই তাঁদের বিয়ে মেনে নিতে চাননি। অগত্যা ভালোবাসার টানে বাড়ির অমতেই বিয়ে করেন তাঁরা।

নিজস্ব প্রতিবেদন:   বাড়ির অমতেই  ভালোবেসে একে অপরকে বিয়ে করেছিলেন তাঁরা। ভেবেছিলেন বিয়ের পর হয়তো পরিবার মেনে নেবে। কিন্তু তা হয়নি। আর এই নিয়েই দাম্পত্য কলহ। কেন তাঁদের বিয়ে মেনে নিচ্ছে না পরিবার? এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে দোষারোপ করতে থাকেন। সমস্যার শুরু সেখান থেকেই। আর সেই অপমানেই কেরোসিন খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে ক্যানিংয়ের ট্যাংরাখালি গ্রামে।

 

Screenshot 20211104 205755 1

বারুইপুরের বেলগাছি গ্রামের বছর সতেরোর অনিতা সর্দার ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন ট্যাংরাখালি গ্রামের রাজাকে। বিয়ের আগে বেশ কিছুদিন প্রেম করেছিলেন তাঁরা। তারপরই বিয়ের সিদ্ধান্ত। কিন্তু দুই পরিবার কেউই তাঁদের বিয়ে মেনে নিতে চাননি। অগত্যা ভালোবাসার টানে বাড়ির অমতেই বিয়ে করেন তাঁরা।

 

বিয়ের পর বেশ কয়েকটা দিন ভালোই কেটেছিল। কিন্তু তারপরই সমস্যার সূত্রপাত। তাঁরা ভেবেছিলেন, কিছুদিন যেতেই পরিবার মেনে নেবে তাঁদের বিয়ে। কিন্তু হয়নি। কেন তা হচ্ছে না, তা নিয়েই একে অপরকে দোষারোপ করতে থাকেন তাঁরা।

অশান্তি জেরে সোমবার কেরোসিন খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন অনিতা। তা দেখতে পেয়েই তড়িঘড়ি স্ত্রীকে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান রাজা। দ্রুত চিকিত্সায় তিনি কিছুটা সুস্থ রয়েছেন। তবে হাসপাতালে রাজা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দেখে ক্ষেপে ওঠেন অনিতার বাড়ির লোক। সেখানেই রাজাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরে পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

আরো খবর পড়ুন

 

বিচ্ছেদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পালিয়ে বিয়ে সেই বর-কনের

বিয়ের আসরে মাংস নিয়ে ঝগড়ার কারণে তালাক হওয়া বর-কনে পালিয়ে বিয়ে করলেন

Related Posts
1 of 151

মোর নিউজ, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে মাংস বেশি খাওয়াকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডার জেরে বিচ্ছেদ হয়েছিল দম্পতির। পরে সেই বর-কনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আবার পালিয়ে নিজেরা বিয়ে করেছেন।

দুই বছর আগে সুমি খাতুনের সঙ্গে সৌদি আরব প্রবাসী সবুজ আলীর বিয়ে হয়। সেই সময় সৌদি আরবে টেলিফোনের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। দুই বছর আগে বিয়ে হলেও চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার দশমী গ্রামে গত রোববার কনে সুমি খাতুনকে তুলে দেয়ার অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে বরপক্ষের মাংস বেশি খাওয়া নিয়ে কনেপক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা, পরে সংঘর্ষ বাধে। এরপর সালিশ বৈঠকে বর-কনের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়।

কনের পিতা নজরুল ইসলাম বলেন,’ বরপক্ষের লোকজন খাবারে অনেক মাংস নষ্ট করেছে। এরপরও ভাত না খেয়ে আরও মাংস আরও বেশি চাইলে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মারামারি শুরু হয়ে যায়। এছাড়া তারা গায়ে হলুদের উপহারও ফেরত নিয়ে এসেছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। সেদিন রাতেই দুই পক্ষের সালিশে বিয়ে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিনজন নিয়ে গ্যাঞ্জাম। সবাই খেয়ে উঠে গেছে, বরের সাথে তিনজন ছিল, ওই তিনজনকে নিয়ে গ্যাঞ্জাম। তারা বলতেছিল, আরও মাংস দেও। গ্যাঞ্জাম করে মারামারি করল।’

তবে বর সবুজ আলীর দাবি, ”মাংস নিয়ে না, হাত ধোয়া নিয়ে কথাবার্তার জের ধরে ঘটনাটা ঘটেছে। তারপর কী থেকে কী হয়ে গেল, বুঝলাম না। যাদের কারণে ঝামেলা হয়েছে, তারা ঘনিষ্ঠ কোন স্বজন নন।’

বর সবুজ আলী বলেন,”সেখানে যা ঘটেছে, তাতে আমাদের দুইজনের তো কোন অন্যায় নেই। বিয়ে বাড়িতে একদুই কথা হয়। কিন্তু সেটা যে এতদূর চলে যাবে, তা ভাবি নাই। আমরা বিয়ে করেছি, ভালো আছি।’

তিনি আরও জানান, সেই ঝামেলার পর যখন দুই পরিবারের মুরুব্বি, গ্রামের মাতবর মিলে বৈঠকে বসেন, সেই সময়েও তিনি চেয়েছেন যে, তার স্ত্রীকে তিনি বাড়িতে নিয়ে যাবেন। কিন্তু তার শ্বশুর রাজি হননি। তবে সেদিন রাতে তিনি ঘুমাতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘ঝগড়ার সময় আমার কথা কেউ শোনেনি। আমি তখনি বলছিলাম, আমার বউকে আমি নিয়ে যাব।’ ‘আমি অনলাইনে, ফেসবুকে এরকম ঘটনার কথা শুনেছি, কিন্তু আমার জীবনেই যে এরকম একটা ঘটনা ঘটবে, কখনো ভাবি নাই। এখন মেয়ের পক্ষেও সবাই ভালো আছে, আমরাও ভালো আছি।’ বলেন সবুজ আলী

কনে সুমি খাতুন জানান, সেদিন তার খুব খারাপ লাগছিল। সারারাত কান্নাকাটি করছিলেন। স্বজনরা তাকে বোঝাচ্ছিলেন যে, যা হওয়ার হয়েছে। অভিমানও হয়েছিল তখন তার, কিন্তু তিনি বার বার বলেছেন, আমি ওর (সবুজ আলী) কাছে যাব। সন্ধ্যায় পরে এক কাপড়ে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে চলে আসেন বলে জানান।

Screenshot 20211104 211210

এ বিষয়ে কনে সুমির বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সে চলে গেছে তার ভাগ্য নিয়ে, এখন আমি আর কি বলবো। সে বড়দের কথা শুনলো না। একদিক থেকে অবশ্য ভালোই হয়েছে। যার সাথে বিয়ে হয়েছিল, তার সাথেই আবার বিয়ে হইছে।’

 

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More