বিয়ের জন্য পালিয়ে চট্টগ্রামে ৬ কিশোর-কিশোরী

বিয়ের জন্য পালিয়ে চট্টগ্রামে ৬ কিশোর-কিশোরী

Related Posts
1 of 151

ঢাকার ধামরাই থেকে পালিয়ে চট্টগ্রামে বিয়ে করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন ৬ কিশোর-কিশোরী। শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাদের আটক করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। তিন কিশোরীর দু’জন ষষ্ঠ ও একজন পঞ্চম শ্রেণির। আর তিন কিশোরের দু’জন নবম ও  একজন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছয় কিশোর-কিশোরীকে তাদের অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন ।
Screenshot 20211104 205755 1 1
ওসি বলেন,  শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর রেল স্টেশন এলাকায়  সন্দেহজনকভাবে চলাফেরার সময় ৬ কিশোর-কিশোরীকে  জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তাদের মধ্যে তিন কিশোরের বয়স ১৫ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। আর তিন কিশোরীর বয়স ১২ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। এসময় তাদের দুই জন নিজেদের স্বামী-স্ত্রী, অন্যরা বন্ধু-বান্ধবী পরিচয় দেয়।

তাদের ব্যাগে কসমেটিকস ও শাড়ি পাওয়াও যায়। সন্দেহজনক কথাবার্তার জন্য তাদেরকে থানায় নিয়ে আসা হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, তাদের পাঁচ জনের বাড়ি ধামরাই উপজেলার বড় কুশিরিয়া কাজিয়ারকু- গ্রামে। আর এক জনের বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায়। তবে সে কিশোর করোনাভাইরাস সংক্রমণে স্কুল ছুটি থাকায় কাজিয়ারকু-ে খালার বাড়িতে থেকে টাইলস ফিটিং করার কাজ শিখছে।

সবার বাড়ি একই এলাকায় হওয়ায় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া এক কিশোরীর বিয়ে ঠিক করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। কিন্তু পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করতে তারা সবাই এক সঙ্গে বাড়ি থেকে পালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য তারা গত দুই সপ্তাহ ধরে নিজেরা পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে সবাই একযোগে বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকায় এবং সেখান থেকে বিকালের ট্রেনে করে রাতে চলে আসে চট্টগ্রামে।
তাদের মধ্যে যে কিশোরের বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে সে জানায়, আগেও সে চট্টগ্রামে এসেছে। তার এক পরিচিত ব্যক্তির নগরীর বন্দরটিলা এলাকায় দোকান আছে বলে সে জানে। সেই পরিচিত ব্যক্তির ভরসায় চট্টগ্রামে এসে থাকা এবং বিয়ের ব্যবস্থা করার বিষয়ে অন্যদের আশ্বস্ত করে।
কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম এসে বন্দরটিলার ওই এলাকায় গিয়ে দোকানের সন্ধান পায়নি সে, এমনকি তার কোন ফোন নম্বরও তার কাছে নেই। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তাদের কাছে ছিল মাত্র ছয় হাজার টাকা। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসতেই তাদের বেশকিছু টাকা খরচ হয়ে যায়।
রাতে অটোরিকশা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরেও পরিচিত ব্যক্তির সন্ধান না পেয়ে অটো চালকের কাছ থেকে রাত যাপনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার সহায়তা চায়।ওই অটোচালক তার নিজের অটো ভাড়া বাবদ সাড়ে ৬০০ টাকা নিয়ে ফ্রি-পোর্ট এলাকায় একটি স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে এক নারীর মাধ্যমে রাতে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয় একটি বাসায়, যার জন্য ওই নারীকে তাদের দিতে হয়েছে ৭০০ টাকা ঘর ভাড়া।
সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাড়ি ফিরে যেতে। সে জন্য তারা বাসের টিকিট করতে গিয়েছিল। কিন্তু টাকা সম্পূর্ণ্য না হওয়ায় রাতের ট্রেনে করে ঢাকায় ফিরতে রেল স্টেশনে গিয়েছিল। আর সেখান থেকে তাদের পুলিশ থানায় নিয়ে আসে। উদ্ধার হওয়া কিশোর-কিশোরীরা সবাই নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। তাদের দুই কিশোরীর মা প্রবাসী শ্রমিক। তাদের সকলকে অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও  জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More