তিন বছর ধরে ছাত্রীকে ধ,র্ষণ, ছাত্রীর আত্মহত্যা, শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

তিন বছর ধরে ছাত্রীকে ধ,র্ষণ, ছাত্রীর আত্মহত্যা, শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

Related Posts
1 of 151

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার হয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে মাশফি সুমাইয়া নামের এক কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। রোববার বিকেলে ওই ছাত্রীর বাবা মো: শামীম মিয়া বাদী হয়ে পাকুন্দিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক রাসেল আহমেদকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। রাসেল আহমেদ কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ গ্রামের রহমত আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

পাকুন্দিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো: শ্যামল মিয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, উপজেলার ষাইটকাহন গ্রামের মো: শামীম মিয়ার মেয়ে মাশফি সুমাইয়া কিশোরগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের গণিত বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১৭ সালে সে কালিয়াচাপড়া চিনিকল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করে। ওই স্কুলে পড়াকালীন সময়ে স্কুলের খণ্ডকালীন শিক্ষক রাসেল আহমেদের কাছে প্রাইভেট পড়তো সে।

সেই সুবাদে রাসেল আহমেদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সুমাইয়ার। দু’জন পৃথক স্থানে থাকলেও তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। গত তিন বছর ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সুমাইয়াকে ধর্ষণ করে আসছিল রাসেল। গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) গোপনে অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে রাসেল। এমন খবর সইতে না পেরে পরের দিন শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ৭টার দিকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে নিজ বাড়ির ঘরের আড়ার সাথে আত্মহত্যা করে সুমাইয়া।

আত্মহত্যা করার আগে ওই শিক্ষকের ছবিসহ ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয় সুমাইয়া। ওই স্ট্যাটাসে সে লিখেছিল, ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন বছর ধরে ছাত্রীকে ধর্ষণের পরে অন্য মেয়েকে বিয়ে করে ছাত্রীকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা আমার প্রিয় শিক্ষক। আর সেই ভাগ্যবান ছাত্রী আমি নিজে। আল্লাহ আমায় মাফ করো।

 

দেশে এমন শিক্ষক আর কোনো ছাত্রীর জীবনে না আসুক। সবাই আমায় মাফ করবেন। সদ্য এসএসসি পাস করা একটা মেয়ে বিয়ের মানে এসব জানতামই না। ভদ্র স্যারকে বিশ্বাস করতাম। যা বলতো তাই শোনতাম। যাই হোক, ভালো থাকুক সে….বিদায়।’

পাকুন্দিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো: শ্যামল মিয়া বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক রাসেল আহমেদকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More