পুলিশের সাথে পর,কীয়ায় ঘর ছাড়লো প্রবাসীর স্ত্রী

পুলিশের সাথে পর,কীয়ায় ঘর ছাড়লো প্রবাসীর স্ত্রী

রাঙ্গুনিয়ায় পালিয়ে যাওয়া দুই সন্তানের জননী জেকি ও তার প্রেমিক স্বামী খালেদ

Related Posts
1 of 151

প্রেম মানে না কোন বাধা। মানেনা কোন বয়স। আর এই কথাগুলোকেই যেন সত্যিতে রুপান্তর করলো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সৌদিআরব প্রবাসীর স্ত্রী জিয়াসমিন। নিজের থেকে বয়সে ছয় বছরের ছোট ,একসময় নিজের মেয়ের গৃহশিক্ষক ও বর্তমানে পুলিশের কনস্টেবল খালেদের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে ঘর ছাড়লো জিয়াসমিন।সাথে ছাড়লো নিজের নাড়ীছেড়া দুই কন্যাসন্তানকেও।যাদের একজনের বয়স ১০ ও আরেকজনের বয়স ৩।

ঘটনার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়- উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের রাজাভুবন সিকদারপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এক সময়ের গৃহশিক্ষক ও বর্তমান আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন চট্টগ্রাম বায়েজিদে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত উপজেলার আলমশাপাড়া ঘাগড়াখিল আবিদপাড়া এলাকার আবদুল গফুরের পুত্র মোস্তফা খালেদ হোসেনের (২২) সাথে পালিয়ে বিয়ে করে জিয়াসমিন। সোমবার (২ এপ্রিল) দুপুরে পলাতক স্ত্রী ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে এলে জনতা ধরে তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। রাত ৮ টার দিকে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে স্ত্রী নব বিবাহিত স্বামীর ঘর বাঁধার আগ্রহের কথা বলে। আগের স্বামীও তাঁর সাথে
সংসার না করার কথা বলেন। উভয়ের সম্মতিতে আগের স্বামীর ছেড়ে নতুন বিবাহিত স্বামীর হাত ধরে চলে যান সে। দুই কন্যা সন্তান বাবার সাথে চলে
যায়। মায়ের কাছ থেকে কন্যার আলাদা হওয়ার মুহুর্তটি উপস্থিত থানা ক্যাম্পাসে সবাইকে অশ্রুসিক্ত করলেও কোন ভাবাবেগ ছিলোনা মা জিয়াসমিনের।

Add

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ফুলবাগিচা গ্রামের ভাগ্যের বাড়ির আব্দুল মালেকের কন্যা জিয়াসমিন আকতার জেকির
(২৮) সাথে একই ইউনিয়নের রাজাভুবন সিকদারপাড়া এলাকার দেলোয়ার সিকদারের পুত্র মো. মনছুরের গত ১২ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের ৩ মাসের মাথায় প্রবাসী স্বামী সৌদি আরবের নিজ কর্মস্থলে ফিরে যান। বিয়ের দুই বছর পর স্ত্রীর কোলজুড়ে এলো প্রথম কন্যা সন্তান মৌমিতা। কন্যা সন্তানের ৫ বছর
বয়সে গৃহ শিক্ষক হিসেবে বাসায় রাখা হলো একই এলাকার কলেজ ছাত্র খালেদ হোসেনকে। মৌমিতাকে পড়ানোর পাশাপাশি তার মা জিয়াসমিনের সাথে
অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে গৃহশিক্ষক খালেদ। এভাবে দিনের পর দিন তাদের অনৈতিক সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হতে থাকে। এর মাঝে ইয়াসমিনের স্বামী বিদেশ থেকে বেশ কয়েকবার আসা যাওয়া করলেও তার চোখকে ফাঁকি দিয়ে ইয়াসমিন ও খালেদের সম্পর্ক চলতেই থাকে।

এদিকে ২০১৫ সালের দিকে তাদেও ইয়সমিনের কোলজুড়ে আসে দ্বিতীয় কন্যাসন্তান আফ্রা।এদিকে গৃহশিক্ষক খালেদ  উত্তর রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রী কলেজ থেকে সবেমাত্র এইচ এস সি পাস করে বের হয়। চাকুরী নেয় পুলিশের। নতুন চাকুরীতে যোগদানের পর এই অসম প্রেমিকের পায়ের তলা শক্ত হয়। সিদ্ধান্ত নেয় পালিয়ে বিয়ে করার। এর জন্য গত বছরের ৫ ডিসেম্বর আদালতের মাধ্যমে প্রবাসী স্বামীকে তালাক দেয়ার ফন্দি আঁটে। গত মার্চ মাসের ১৩ তারিখ স্বামী বিদেশ থেকে আসার পর তার সাথে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যায়। এভাবে ২৪ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত আগের স্বামীর সাথে স্বাভাবিক আচারণ করে। কিন্তু এদিন সন্ধ্যায় স্বামী বাজারে গেলে স্ত্রী প্রেমের টানে নিজের দুই সন্তানকে ঘরে রেখে পালিয়ে যায়। খোঁজাখুজির পর না পেয়ে দুই সন্তানকে নানার বাড়িতে দিয়ে
আসেন তাদের পিতা। নিখোঁজের ব্যাপারে পরের দিন ২৫ মার্চ রাঙ্গুনিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন মহিলার পিতা সৈয়দুল আলম সিকদার। কিন্তু
সেদিন ২৫ মার্চই আদালতে গিয়ে প্রেমিকের সাথে বিয়ে করে তারা। এরমাঝে আগের স্বামীর পাঠানো ব্যাংক হিসাবে যাবতীয় টাকা উত্তোলন
করা শুরু করে সে। সোমবার(২ এপ্রিল) ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের রাণীরহাট শাখা থেকে টাকা তুলতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়ে এই অসম
প্রেমিক জুটি। পরে উত্তপ্ত জনতার হাত থেকে উদ্বার করে তাদের থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ মো. আহসানুল কাদের ভূঁইঞা সিভয়েসকে জানান, ‘নিখোঁজ ডায়েরীর ভিত্তিতে তাদেও থানায় আনার পর উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে স্ত্রীর আগের স্বামীর সাথে সংসার  করবেনা বলে জানায় ইয়াসমিন। বর্তমান স্বামী খালেদের সাথে সে ঘর করবে বলাতে উপস্থিত সকলের সামনে পিতার জিম্মায় দিয়ে দেওয়া হয় ইয়াসমিনের দুই কন্যাসন্তানকে। পালিয়ে যাওয়া স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার জেকি বলেন, ‘আমার আগের সংসারে আমি সুখি ছিলাম না। তাই আমি সুখি হতে খালেদকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করি।’
এদিকে মায়ের কোল থেকে দুই কন্যাকে আলাদা করার দৃশ্য উপস্থিত সকলকে অশ্রুসিক্ত করে। পুলিশ থেকে সাধারণ সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে শিশু কন্যা
দুটির কান্নায়। আর এসময় ভাবশেষহীণ ছিলো মা ইয়াসমিন। মেয়েটির পূর্বের স্বামী মো. মনছুর বলেন, ‘আমার ঘরে গচ্ছিত ৫ লাখ টাকা, ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে পূর্বের গৃহশিক্ষকের সাথে সে পালিয়ে গেছে। সে অন্যের সাথে চলে যাওয়ায় আমি তার সাথে আর সংসার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি করি।’

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More