পর,কীয়া জানাজানি হতে মোড়লরা গৃহবধূকে বিয়ে দিলেন প্রেমিকের সাথে, পরে স্বামী এসে আবার বউকে বাড়ি নিয়ে গেলেন

পর,কীয়া জানাজানি হতে মোড়লরা গৃহবধূকে বিয়ে দিলেন প্রেমিকের সাথে, পরে স্বামী এসে আবার বউকে বাড়ি নিয়ে গেলেন

আরও কাছাকাছি, আরও কাছে এস। কিন্তু সেই কাছে আসতে গিয়েই যে হয়ে গেল বিপত্তি। ধরা পড়ে যেতে হল গ্রামেরই লোকেদের হাতে। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক জানাজানি হওয়ায় চরম হেনস্তার শিকার গৃহবধূ ও তাঁর প্রেমিক। গাছে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয় দুজনকেই। এরপর গ্রামের মোড়লদের সামনেই বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় ওই প্রেমিক যুগলকে। তার জেরে একজনেরই বউ পেয়ে গেল জলজ্যান্ত দুইখানি স্বামী। একেবারে যেন মর্ডান দ্রৌপদী।

না একালের কোন মহাভারত নয়, গৃহবধূর কপালে এই জোড়া স্বামী জোটার ঘটনাটি ঘটেছে এই বাংলারই মেদিনীপুরের মাটিতে। যে মেদিনীপুরের মাটি থেকে উঠে এসে বিদ্যাসাগর মশাই রীতিমর লড়াই করে বিধবা বিবাহ আইন পাশ করাতে সক্ষম হয়েছিলেন। যে গৃহবধূর ‘জোড়া স্বামী প্রাপ্তি’ ঘটেছে তিনি অবশ্য বিধবা নন, তার সোয়ামী এখনও জীবিত আছেন। তবুও গৃহবধূ ধরা দিয়েছেন অন্য কারোর বাহুবন্ধনে। তার তাতেই ঘটেছে যাবতীয় বিপত্তি।

 

বছর পাঁচেক আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের ধসাচাঁদপুরের বাসিন্দা দিবাকর পাঁজার সঙ্গে বিয়ে হয় অনন্যা পাঁজা নামে ওই মহিলার। বিয়ের পরই কর্মসূত্রে ভিনরাজ্যে চলে যান মহিলার স্বামী। অভিযোগ, এরপর থেকেই প্রতিবেশী  কিংকর পাঁজার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে শুরু করে অনন্যার। স্থানীয় ও প্রতিবেশীদের চোখ এড়িয়ে প্রায়দিনই এলাকায় দেখা করতেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে ছেলেকে টিউশন পড়তে দিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে যান ওই গৃহবধূ। অভিযোগ, সেই সময় আপত্তিকর অবস্থায় অনন্যা ও কিংকরকে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা।

 

 

সোমবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশী বৌদির সঙ্গে ওই যুবককে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে গ্রামবাসীরা। তারপরই তাদের তাদের ধরে প্রথমে দড়ি দিয়ে গাছে বেঁধে রাখে। তাদের নিয়ে বসে গ্রামের মোড়লদের সালিশি সভা। সঙ্গে চলে চড় থাপ্পড়ও। এরপরই মোড়লদের নির্দেশে, গ্রামের পরিবেশ সুস্থ রাখতে, ওই গৃহবধূর সঙ্গে যুবকের মালা বদল করিয়ে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়।

জানা গিয়েছে ওই গৃহবধূর যেমন একটি মেয়ে রয়েছে তেমনি ওই যুবকের পরিবারের সঙ্গে গৃহবধূর পরিবারের সুসম্পর্কও রয়েছে। তবে দুইজনের পরিবার এটিকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে। যদিও স্থানীয়দের দাবি-এই সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। যুবকের মোবাইলে দুজনের বেশ কিছু ঘনিষ্ঠ মুহুর্তের ছবিও পাওয়া গিয়েছে।

 

ততক্ষণে খবর পৌঁছে গিয়েছে ভিনরাজ্যে থাকা স্বামী দিবাকরের কাছেও। এরপর বুধবার সকালেই গ্রামে হাজির হন তিনি। স্ত্রীর দ্বিতীয় স্বামীর বাড়িতে চড়াও হয়ে অনন্যাকে মারধর করেন দিবাকরবাবু। টেনে হিঁচড়ে স্ত্রীকে নিজের বাড়িতেও নিয়ে যান তিনি। তবে সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে ফিরে পেতে মরিয়া কিংকর। দিবাকরের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে অপহরণের অভিযোগ তুলে গ্রামের মোড়লদের দ্বারস্থ হন তিনি। কিন্তু তাতে কোনও সুরাহা মেলেনি।

 

এপ্রসঙ্গে পঞ্চায়েত সদস্য মহুয়া বেরা বলেন, “আমি গোটা ঘটনাটি শুনেছি। তবে ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়নি।” সিভিক ভলান্টিয়র দেবাশিস মাইতি বলেন, ‘‘ওরা বিয়ে করতে চেয়েছিল। তাই বিয়ে দেওয়া হয়েছে। জোর করে কিছু করা হয়নি।’’ সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরকীয়া বৈধ। তা সত্বেও কেন আইন অমান্য করলেন স্থানীয়রা? কেনই বা পুলিশ কোনও ভূমিকা নিলেন না তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

Related Posts
1 of 151

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More