যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যা,তন, মামলা তুলে নিতে হুমকি

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন, মামলা তুলে নিতে হুমকি

১  

নির্যাতিত ফারজানা আক্তার মিতু। ইনসেটে স্বামী কামাল হোসেন।

Related Posts
1 of 151

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ ফারজানা আক্তার মিতুকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মিতু আদালতে মামলা করলে এখন তার স্বামীর লোকজন মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে।

দুই সন্তানের জননী মিতু উপজেলা সদরের ঝলম গ্রামের নুরুল হক মোল্লার মেয়ে। তার স্বামী অভিযুক্ত কামাল হোসেন পাশের পোমগাঁও গ্রামের হারছ আহম্মেদের ছেলে।

 

মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে ওই গৃহবধূর বড় ভাই নুর মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, ‘২০১২ সালে কামাল হোসেনের সঙ্গে আমার বোনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকসহ বিভিন্ন কারণে বোনকে নির্যাতন করে আসছে তার স্বামী। সর্বশেষ গত ১১ অক্টোবর তিন লাখ টাকা আমাদের বাড়ি থেকে নিয়ে দেওয়ার জন্য মিতুকে মারপিট শুরু করে কামাল। এক পর্যায়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়। এরপর কামাল, তার মা নুরজাহান, বাবা হারছ আহম্মদ, ভাই বাহার, রাজন ও বোন বিউটি আমার অসহায় বোনের ওপর নির্মম নির্যাচন চালায়। তারা চেয়েছিলো আমার বোনকে প্রাণে মেরে ফেলতে। তাদের ভয়ে আমার বোন এখন আতংকে দিন পার করছে।’

নুর মোহাম্মদ মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, ‘এ ঘটনার পর আমরা থানায় গেলে পুলিশ বলে আদালতে মামলা করতে। স্থানীয়ভাবে কোথাও বিচার না পেয়ে গত ১৭ অক্টোবর আদালতে কামালসহ তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে আমার বোন। আদালত ঘটনা থানা পুলিশকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন। মামলা করার পর থেকে কামালের লোকেরা আমাদের হুমকি দিচ্ছে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য।’ আসামিদের কঠোর শাস্তি চান তিনি।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বেশ কয়েকবার চেষ্টা করে অভিযুক্ত কামাল হোসেনের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার মোবাইলফোনও বন্ধ রয়েছে।

 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুল কবির বলেন, ‘ওই গৃহবধূকে মারপিটের ঘটনায় আদালতে মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে আমরা মামলার তদন্ত করছি। আশা করছি আগামী দুই/তিন দিনের মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে।’

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More