বকশিশ কম দেওয়ায় অক্সিজেন খুলে দিলেন ওয়ার্ডবয়, মারা গেলেন রোগী

বকশিশ কম দেওয়ায় অক্সিজেন খুলে দিলেন ওয়ার্ডবয়, মারা গেলেন রোগী

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ার্ডবয় চাহিদামতো বকশিশের টাকা না পেয়ে অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেওয়ায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (০৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয় পলাতক রয়েছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা।

নিহতের নাম বিকাশ চন্দ্র দাস (১৮)। তিনি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার শিয়ালকুন্ডি গ্রামের বিশু দাসের ছেলে।

নিহতের চাচা শচীন চন্দ্র বলেন, তার ভাতিজা বিকাশ চন্দ্র সন্ধ্যা ৭টায় সাঘাটায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হন। এরপর স্থানীয় লোকজন তাকে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে।

Related Posts
1 of 151

এরপর শজিমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় দুলু স্ট্রেচারে করে ৩য় তলায় সার্জারি বিভাগে নিয়ে গিয়ে ৫০০ টাকা দাবি করেন। কাছে টাকা না থাকায় বিকাশের বাবা বিশু দাস ১৫০ টাকা দিতে চান। কিন্তু ওয়ার্ড বয় ২০০ টাকা দাবি করেন।
৫০ টাকা তাৎক্ষণিক না পাওয়ায় ওয়ার্ডবয় রেগে গিয়ে টান দিয়ে অক্সিজেন মাস্ক খুলে দেন। এর পরপরই বিকাশের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তখন তারা ওয়ার্ডবয়কে অক্সিজেন লাগিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেন কিন্তু ওয়ার্ডবয় দুলু ৫০ টাকা না দিলে লাগাবেন না বলে জানান।

এরপর তারা নিজেরাই বিকাশের মুখে অক্সিজেন লাগিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। যখন তার ভাতিজার নাক দিয়ে শ্লেষ্মা বের হওয়া শুরু করে তখন ওয়ার্ডবয় পুনরায় অক্সিজেন লাগিয়ে দেন।

এরপর পর তার ভাতিজা আর শ্বাস নিচ্ছে না দেখে ওয়ার্ড বয় সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে ডাক্তার এসে রোগীকে মৃত ঘোষণা করেন।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ পাঠিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকেই ওয়ার্ডবয় দুলু পালিয়ে গেছে। তাকে খোঁজা হচ্ছে। তাদের কাছে অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More