আলমডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেলো স্কুলছাত্রীর

আলমডাঙ্গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেলো স্কুলছাত্রীর

Related Posts
1 of 151

চুয়াডাঙ্গার আলোমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের মাঠপাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে খাদিজা খাতুন (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছে হালিমা খাতুন (১৪) নামে আরেক কিশোরী।

মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খাদিজা মারা যায়।

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যাওয়া খাদিজা খাতুন (১৩) আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়া গ্রামের মাঠপাড়ার আজির উদ্দিনের মেয়ে ও হাটবোয়ালিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। আহত হালিমা খাতুন একই পাড়ার আফাজ উদ্দিনের মেয়ে ও হাটবোয়ালিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী।

গ্রামবাসী জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে খাদিজা খাতুন ও হালিমা খাতুনসহ কয়েকজন বান্ধবী মিলে বাড়ির পাশের এসকেএসবি ইটভাটার উঁচু মাটির ঢিবির ওপর বসে খেলা করছিল। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত খাদিজা ও হালিমা বিদ্যুতের তারে হাত দিলে দুজনেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে আলমডাঙ্গা হারদি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

 

 

সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য খাদিজাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে খাদিজার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে হালিমা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এক কিশোরীর মৃত্যুর খবর শুনেছি। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হবে।

২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে আরও ১০৩ ডেঙ্গুরোগী

রাজধানীসহ সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে আরও ১০৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে রাজধানী ঢাকার ৮৯ জন ও ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ১৪ জন চিকিৎসাধীন।

এ নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৭০৫ জন। এছাড়া চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৯৫ জন মারা গেছেন।

শুক্রবার (৫ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ কামরুল কিবরিয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৭০৫ জন ডেঙ্গুরোগীর মধ্যে রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৫৪৫ জন ও ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ১৬০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশের হাসপাতালে ভর্তি ১০৩ জনের মধ্যে ঢাকার সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে ৪৩ জন ও বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৪৬ জন ভর্তি হন। এছাড়া ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিভাগে ১৪ জন চিকিৎসাধীন।

জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আজ (৫ নভেম্বর) পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে মোট রোগী ভর্তি হয়েছেন ২৪ হাজার ৩৮০ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৩ হাজার ৫৮০ জন। বর্তমানে সক্রিয় রোগী আছে ৭০৫ জন।

ডেঙ্গরোগীদের মাসওয়ারি হিসাবে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৯ জন, মার্চে ১৩ জন, এপ্রিলে ৩ জন, মে মাসে ৪৩ জন, জুনে ২৭২ জন, জুলাইয়ে ২ হাজার ২৮৬ জন, আগস্টে ৭ হাজার ৬৯৮ জন, সেপ্টেম্বরে ৭ হাজার ৮৪১ জন, অক্টোবরে ৫ হাজার ৪৫৮ জন এবং নভেম্বরে এখন পর্যন্ত ৭২৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হন।

চলতি বছর ডেঙ্গুতে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়। মৃতদের মাসওয়ারি হিসাবে জুলাই ১২ জন, আগস্টে ৩৪ জন, সেপ্টেম্বরে ২৩ জন, অক্টোবরে ২২ জন ও নভেম্বরে এখন পর্যন্ত তিনজন মারা গেছেন।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More