প্রেমের টানে ফরিদপুরে উড়ে এলেন আমেরিকান কন্যা

প্রেমের টানে ফরিদপুরে উড়ে এলেন আমেরিকান কন্যা

প্রেমের টানে সাত সমুদ্র তের নদীর পার হয়ে বাংলাদেশে এসে বিয়ের বৌভাত অনুষ্ঠান করলেন এক আমেরিকান নারী। হাজার মাইল পাড়ি দেয়া আমেরিকান নারী ব্যাংকার শ্যারন নিজের দেশ, ধর্ম আর বয়সকে তুচ্ছ করে ফরিদপুরের কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামের যুবক সিংকুর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

বুধবার (২ অক্টোবর) দুপুরে গ্রামীণ সাঁজে উৎসবমুখর পরিবেশে এই দম্পতির বিয়ে উপলক্ষে বৌভাত অনুষ্ঠিত হয়। বৌভাতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

গত ২ বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে মাষ্টার্সে অধ্যয়নরত ফরিদপুরের যুবক মো. আশরাফ উদ্দিন সিংকুর (২৭) সঙ্গে আমেরিকার নাগরিক ও নিউইয়র্কের বাসিন্দা ব্যাংকার নারী শ্যারনের (৪১) পরিচয় হয়।

এরপর তাদের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সেই প্রেমের টানে ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল বাংলাদেশে আসেন শ্যারন। এরপর ২০ এপ্রিল ফরিদপুরের ঝাউখোলা গ্রামের সরকারি দফতরের গাড়িচালক আলাউদ্দিন মাতুব্বরের ছেলে সিংকুকে বিয়ে করেন। বিয়ের কয়েকদিন পর শ্যারন আমেরিকায় ফিরে যান এবং সিংকু ও তার পরিবারকে বলে যান তিনি বাংলাদেশে ফিরে এসে বিয়ের বৌভাত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিংকুকে গ্রহন করবেন।

তিনি সেই কথা রক্ষায় ফরিদপুরে এসে বুধবার বৌভাত অনুষ্ঠান সম্পন্ন করলেন। অনুষ্ঠানে এলাকার দুই শতাধিক অতিথি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া আমেরিকান নারী শ্যারুনকে দেখতে নানা বয়সের নারী-পুরুষ ও শিশুরা সিংকুর বাড়িতে ভির জমান। এতে কনে শ্যারুনও আগত অতিথি ও উৎসুক মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

Related Posts
1 of 151

তবে এ বৌভাত অনুষ্ঠানে শ্যারনের কোনো আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন না। উভয়ের আন্তরিকতা দেখে প্রশংসা করেছেন বৌভাতে আসা অতিথিরা। শ্যারন বাংলা কিছু কিছু বুঝলেও সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে টুকটাক ইংরেজি বলেন।

সিংকুর বাবা আলাউদ্দিন বলেন, আমাদের সঙ্গে বৌমা শ্যারন খুব ভালো ব্যবহার করছেন। এরই মাঝে সে বাংলা কিছুটা বুঝতে শিখেছে। তার আচরণে মনেই হয়না সে ভিনদেশি কোনো নারী। আমাদের পুত্রবধূকে ভালোভাবেই গ্রহণ করেছি।

বর সিংকু বলেন, প্রেম বয়স আর ধর্ম মানে না। আমি শ্যারনকে অত্যন্ত ভালোবাসি। শ্যারনও আমাকে অনেক ভালোবাসে। আগেরবার এসে আমাদের পরিবারকে সে খুব আপন করে নিয়েছিল, যা এখনো আছে। এখন বৌভাত অনুষ্ঠান হয়ে গেছে। আগামী ৮ অক্টোবর শ্যারুন আমেরিকায় চলে যাবে। এরপর আমার কাগজপত্র ঠিক করে আমি চলে যাব শ্যারনের কাছে আমেরিকায়।

মার্কিন কনে শ্যারন বলেন, আমি এ দেশকে অনেক ভালোবাসি। আমার ভালোবাসার প্রমাণ হিসেবেই এই বিয়ে। সিংকুর হাত ধরে আমি সারাজীবন কাটাতে চাই।

স্থানীয় অতিথিরা বলেন, একজন ভিনদেশি নারী আমাদের দেশের একজন গরীব ছেলেকে ভালোবেসে বিয়েই প্রমাণ করে বাংলাদেশি মানুষ আন্তরিক ও অতিথিপ্রবণ। এ বিয়ের মধ্যদিয়ে সিংকু ও শ্যারনের যুগল বন্ধন অটুট থাকুক সেটিই আমরা চাই।

আই/

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More