প্রবাসীর স্ত্রী অবা’ধে পর,কীয়া চালাতেই ট্রিপল মা’র্ডার, খ’লনায়িকা গ্রেফতার

প্রবাসীর স্ত্রী অবা’ধে পর,কীয়া চালাতেই ট্রিপল মা’র্ডার, খ’লনায়িকা গ্রেফতার

Related Posts
1 of 151

 

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় আলোচিত ট্রিপল হ’ত্যাকা’ণ্ডের প্রকৃত রহ’স্য অবশেষে উদঘা’টিত হয়েছে। কুয়েত প্রবাসী ইমাম আবদুর রবের স্ত্রী মিশরাত জাহান মিশুর পর’কীয়া প্রেমের জের ধরেই এ হ’ত্যাকা’ণ্ড সংঘ’টিত হয় বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। ঘটনার নেপথ্যের এই ‘খ’লনায়িকাকে’ হ’ত্যা মাম’লায় গ্রে’প্তার করেছে পুলিশ।

 

গতকাল রোববার রাত ১১টায় কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রী মিশুকে গ্রে’প্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমা’ন্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে গ্রে’প্তার মিশুকে বানারীপাড়া থেকে বরিশাল আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবা’দের জন্য পাঁচ দিনের রিমা’ন্ড আবেদন করা হয়। পরে তার তিন দিনের রিমা’ন্ড মঞ্জু’র করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বি’চারক মো. মনিরুজ্জামান।

 

বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব বলেন, ‘ট্রিপল মা’র্ডা’রে গ্রে’প্তার জাকির হোসেন ও জুয়েলের দেওয়া জ’বানব’ন্দি অনুযায়ী হ’ত্যাকা’ণ্ডের সঙ্গে প্রবাসীর স্ত্রী মিশরাত জাহান মিশুর জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসে। এরপর তাকে বানারীপাড়ার সলিয়াবাকপুর এলাকার নিজ বাসা থেকে গ্রে’প্তার করা হয়।’

 

হ’ত্যাকা’ণ্ডের ঘটনায় গ্রে’প্তার হওয়া প্রধান দুই আসামি জাকির ও জুয়েল আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বী’কারো’ক্তিমূলক জবানব’ন্দি দিয়েছেন। রোববার রাতে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. এনায়েত উল্লাহ তাদের জবানব’ন্দি রেকর্ড শেষে কা’রাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।র‌্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসা’মির মধ্যে রাজমিস্ত্রি জাকির হোসেন তিন বছর আগে প্রবাসী আবদুর রবের বাড়ি নির্মাণ করেন। সে সময় মিশরাত জাহান মিশু রাজমিস্ত্রি জাকিরের সঙ্গে পরকী’য়ায় জড়িয়ে পড়েন। সেই থেকে প্রায়ই প্রবাসীর বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন জাকির।

 

এক পর্যায়ে ছেলের বউ ও রাজমিস্ত্রির পরকী’য়া ধরে ফেলেন প্রবাসীর মা মরিয়ম বেগম। এ নিয়ে ছেলের বউ ও শাশুড়ির মধ্যে মনোমা’লিন্য তৈরি হয় এবং সেই সূত্র ধরেই মূলত হ’ত্যার পরিকল্পনা হয়। সে মোতাবেত গত শুক্রবার রাতে সহযোগী জুয়েলকে নিয়ে প্রবাসীর ঘরে প্রবেশ করেন জাকির। তারা দুজনে মিলে প্রবাসীর মা ও ভ’গ্নিপতিসহ তিন জনকে হ’ত্যা করেন।প্রথমে তারা প্রবাসীর খালাতো ভাই ভ্যানচালক ইউসুফকে (২২) শ্বাসরো’ধ করে হ’ত্যা করেন। পরে প্রবাসীর মা মরিয়ম বেগমকে (৭৫) একইভাবে হ’ত্যা করার সময় পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা প্রবাসীর বোন জামাই শফিকুল আলম ঘুমের মধ্যে কাশি দিলে ঘা’তকরা মনে করেন তিনি (শফিকুল) বিষয়টি টের পেয়েছেন। ফলে ধরা পড়ার ভয়ে তাকেও শ্বাসরো’ধ করে হ’ত্যা করা হয়।

 

হ’ত্যাকা’ণ্ডের পর স্বর্ণালঙ্কার ও তিনটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল হ’ত্যাকা’ণ্ডের বিষয়টি ডা’কাতি বলে প্রমাণ করা।জানা গেছে, এই দুই আসামি আদালতে জবানব’ন্দি দেওয়ার পরে ঘটনার সঙ্গে প্রবাসীর স্ত্রী জড়িত থাকা এবং পরকী’য়ার বিষয়টি সামনে চলে আসে।এদিকে পরকী’য়া প্রেমিকের সঙ্গে নির্বি’ঘ্নে মিলিত হতে ও সংসারে স্বাধীনভাবে বিচরণ করে কর্তৃত্ব নিজের হাতে নিতে তার সঙ্গে পরিকল্পনা করেন মিশু। পূর্বপরিকল্পিতভাবে শাশুড়িসহ তিনজনকে তিনি হ’ত্যা করিয়েছেন বলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিশির কুমার পাল জানান।

 

শিশির আরও জানান, ঘা’তকদের পথের কা’টা হিসেবে মূল টার্গেট ছিল বৃদ্ধা মরিয়ম বেগম ও তার বোনের ছেলে ইউসুফ।প্রসঙ্গত, শুক্রবার দিবাগত রাতে বানারীপাড়ার সলিয়াবাকপুর গ্রামের হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা ও কুয়েতের একটি মসজিদের ইমাম হাফেজ আবদুর রবের মা মরিয়ম বেগম, ভগ্নিপতি ও সাবেক স্কুল শিক্ষক শফিকুল আলম এবং খালাতো ভাই ইউসুফকে নৃ’শং’সভাবে হ’ত্যা করা হয়।শনিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে রাজমিস্ত্রি জাকির হোসেন ও রাতে র‌্যাবের সহযোগিতায় তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে বরিশাল থেকে জুয়েলকে গ্রে’প্তার করা হয়।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More