শিশু গৃহকর্মীকে দেওয়া হতো খুন্তির ছ্যাঁ,কা, মুখে পোরা হতো গামছা

শিশু গৃহকর্মীকে দেওয়া হতো খুন্তির ছ্যাঁ,কা, মুখে পোরা হতো গামছা

Related Posts
1 of 151
কাজ পছন্দ না হলে সারা শরীরে দেওয়া হতো গরম খুন্তির ছ্যাকা/ ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

কাজ পছন্দ না হলে সারা শরীরে দেওয়া হতো গরম খুন্তির ছ্যাকা। কান্নার শব্দ বন্ধ করতে মুখে পুরে দেওয়া হতো গামছা

কাজ পছন্দ না হলে সারা শরীরে দেওয়া হতো গরম খুন্তির ছ্যাঁকা। কান্নার শব্দ বন্ধ করতে মুখে পুরে দেওয়া হতো গামছা।

 

দিনের পর দিন এমন নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে রাজধানী থেকে বাড়ি ফিরেছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নয় বছর বয়সী জান্নাতুল নামের এক শিশু গৃহকর্মী। নির্যাতনের কথা কাউকে জানালে শিশুটিকে মেরে ফেলারও হুমকি দিয়েছিল নির্যাতনকারী গৃহকর্তী।

ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার জানায়, বছর পাঁচেক আগে উপজেলার জান বক্স দ্বিতীয় বিয়ে করে বাড়ি ছাড়েন। প্রথম স্ত্রী নুরজাহান খাতুন (৪৫) ২ মেয়ে ও ১ ছেলে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। বড় মেয়েকে বিয়ে দিলেও অভাবের সংসারে যেন দুচোখে অন্ধকার দেখতে শুরু করেন নুরজাহান। কাজের সন্ধানে তিনি দুই শিশু সন্তান নিয়ে ঢাকায় চলে যান।

৩ বছর আগে ঢাকা থেকে আবারও গ্রামে ফিরে এসে বাড়ি বাড়ি গৃহকর্মীর কাজ শুরু করেন। এতেও সংসারের অভাব দুর না হওয়ায় বাধ্য হয়ে ৯ বছরের জান্নাতুল খাতুনকে সাঁথিয়ার রায়েকমারী গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে মিঠুর ঢাকার বাসায় কাজের জন্য পাঠান। সেখানে গৃহকর্তা মিঠুর স্ত্রী শাপলার নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে জান্নাতুল। শাপলার কাজ পছন্দ না হলেই জান্নাতুলকে মারপিট ও গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেওয়া হতো।

৯ মাস পর গত ২৯ অক্টোবর বাসে করে তাকে ঢাকা থেকে পাবনায় পাঠায়। মিঠুর মা জান্নাতুলকে বাড়িতে পৌঁছে দেন। পরিবারের দেওয়া সংবাদে, শুক্রবার জান্নাতুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার দুই হাত, পিঠে, মুখে নির্যাতনের চিহ্ন। খুন্তির ছ্যাঁকার দাগ এখন শরীরের সাথে মিশেনি।

ঢাকা ট্রিবিউনকে গৃহকর্মী জান্নাতুল বলে, “কোনো কাজ করতে বা নির্দেশ পালন করতে বিলম্ব হলে মিঠুর স্ত্রী শাপলা শুরু করতো অসহনীয় অত্যাচার। যাতে শব্দ বাইরে না যায় তার জন্য মুখের মধ্যে গামছা পুরে দেওয়া হতো। আমি বাড়ি আসতে চাইলে তারা আরও বেশী মারধর করতো। মায়ের সাথে ফোনে যোগাযোগ করতে দিত না। বাড়িতে এসে নির্যাতনের কথা কাউকে জানালে আমাকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে তারা।”

জান্নাতুলের মা নুরজাহান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “মিঠুর মা সাঁথিয়ার ক্ষেতুপাড়া আব্দুস সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মায়া বেগম ভরণপোষণ ও বিয়ের চুক্তিতে বাসার কাজের জন্য আমার মেয়েকে ঢাকার উত্তরার খিলক্ষেতে তার ছেলের বাসায় পাঠান। মিঠুর মা মাসে মাসে ঢাকায় গেলেও অত্যাচারের কথা গোপন রেখেছিলেন। আমি আমার মেয়েকে পেটের ভাতের জন্য কাজে পাঠিয়েছিলাম, অত্যাচারের জন্য নয়।” তিনি তার মেয়ের প্রতি নির্যাতনের বিচার দাবি করেন।

এই ব্যাপারে মিঠুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

মিঠুর মা বলেন, “জান্নাতুলকে আমি কাজের জন্য ঢাকা পাঠাই। সেখানে সে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে।”

এ ব্যাপারে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল ঢাকা হওয়ায় মামলা সেখানেই করতে হবে। আমি জান্নাতুলের পরিবারকে ঢাকায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি। শনিবার তারা ঢাকা খিলক্ষেত থানায় মামলার দায়ের করেছেন বলে শুনেছি।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More