সুদে টাকা দিয়ে ১০ বছর ধরে পরকীয়া,ঘর ছাড়া দুই সন্তানের জননী !

অন্তর দে বিশাল,কক্সবাজার:

সুদে টাকা লাগিয়ে ১০ বছর ধরে অন্য একজনের বউয়ের সাথে পরকীয়া করে বেরিয়েছে ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি আবদুল মালেক নামের এক ব্যক্তি।

পরে সুদের টাকা আদায় করতে না পেরে পরকীয়ার জেরে বীনা নাথ (৩৯) কে করেছে নিজের অবৈধ স্ত্রী।
বীনা নাথের ঔরুষ জাতের দুই সন্তানকেও নিয়ে গেছিলেন তারই অবৈধ স্বামী আবদুল মালেক।
পরে স্থানীয় লোক জনের সহায়তায় এক ছেলেকে বাবার কাছে ফিরিয়ে এনেছে তারা।

এমনই অদ্ভুত ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেঁখাকুল নাথপাড়ায়।

গত ১৫ দিন ধরে কোন রকম স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে এক ঘরে কাটাছে আবদুল মালেক ও বীনা নাথ।

ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,বীনা নাথ, ফতেখাঁরকুল নাথ পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা হরিমোহন নাথের মেয়ে । ২০০৩ সালে মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটা হিন্দু পাড়ার বাসিন্দা সাজু দে (৪০) এর সাথে সামাজিক ভাবে বিয়ে হয়ে ছিলো। বিয়ের পর সুখে সংসার করছিলো তারা। হয়েছিলো দুই সন্তানের জনক ও জননী । বড় ছেলের নাম অভিষেক দে (১৬), কাজ করে ঔষধের দোকানে,ছোট ছেলের নাম অলিক দে (১৪) সপ্তম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র ।

একপর্যায়ে সাজুর বউ বীনা নাথ শশুর বাড়ী ছেড়ে স্বামী ও দুই ছেলে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে আসে।
পরে স্বামী সাজু দে মহেশখালী থেকে রামু ঘুরাঘুরিতে থাকতো। সেই সুযোগে নাথ পাড়া এলাকায় রোজ যাতায়াত করতো ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি মালেক। বীনা নাথের বাপের বাড়ির সামনে দুইটি চায়ের দোকানে নিয়মিত আড্ডা জমাতো মালেক। সেখানে পরিচয় হয় বীনা নাথের সাথে। একপর্যায়ে বীনা নাথ জানতে পারে ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি মালেক সুদের ব্যবসা করে নাথ পাড়া এলাকায়। তার টার্গেট হিন্দু ধর্মালম্বীদের সুদে টাকা দেওয়া। বীনা নাথ পরিবারের অভাব অনটন দেখে সুদে টাকা নিয়েছিলো মালেকের কাছ থেকে।
একপর্যায়ে সেই টাকা নেওয়ার অজুহাতে মালেক ঢুকে পড়ে বীনা নাথের বাড়িতে। তাদের মধ্যে গড়ে উঠে ভালো বন্ধুত্ব।একপর্যায়ে মালেক তার সুদের ব্যবসার দায়িত্ব দিয়ে দে বীনা নাথ কে।
বীনা নাথের দায়িত্বে পুরো এলাকায় ৮ লক্ষ টাকা সুদের শর্ত বিনিয়োগ করে মালেক।
সে-ই থেকে শুরু হয় তাদের অবৈধ মেলামেশা। দীর্ঘ দশ বছর ধরে তাদের এই মেলামেশা লোকচোখের আড়াল হয়ে থাকে।

স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানা,বীনা নাথ ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি মালেকের সুদের ব্যবসার দেখভাল করার লোক ছিলো। নিয়মিত যাতায়াত করতো সেই। কিন্তু ভিতরে ভিতরে তারা পরকীয়া করবে সেটা কখনো ভাবে নাই।
মালেক সুদে টাকা দিয়ে পুরা নাথ পাড়া সমাজের সমাজপতি থেকে শুরু করে সবাইকে নিজের হাতে করে রাখতো। যার কারণে কেউ কিছু দেখলে তা বলতে পারতো না।

Related Posts
1 of 151

বীনা নাথের বড় ভাইয়ের স্ত্রী জানান,মালেক নিয়মিত আমাদের বাড়িতে আসতো। আমার শাশুড়ী তার নামে কিছু জায়গায় রেখে গেছে যার কারণে সেই দাপট দেখাতো। আমি ও আমার স্বামী কিছু বললে আমাদের সাথে ঝগড়াঝাটি থেকে শুরু করে হাতাহাতি পযর্ন্ত করত।
মালেকের দাপটে আমার ননদী ডাইনি হতে সময় হয়নি। আমার স্বামীকে অনেকবার হুমকি ধামকি দিচ্ছে তারা।

বীনা নাথের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি তার সংসার করবো না। আমি এখন মালেকের স্ত্রী। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী মালেক কে আমি বিবাহ করছি,আমার বর্তমান নাম ইয়াসমিন।

আগের স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ করছে কিনা জানতে চাইলে, তিনি বলেন,আমি উকিলের কাছে গিয়ে সব করে ফেলছি।

বীনা নাথের স্বামী সাজু দে বলেন,আমি মহেশখালী থেকে রামু প্রায় যাওয়া আসার মধ্যেই থাকতাম। আমার দুই ছেলে বড় হয়েছে। তাই এদিকে তেমন সময় দিতাম না।তবে মালেক থেকে পরিবারের খরচের জন্য সুদে টাকা নিয়েছে বলে জানিয়ে ছিলো। তবে এমন কাজ করবে সেটা জানতাম না।
আমি চাই আমার দুই ছেলেকে ফিরিয়ে পেতে।

বিবাহ বিচ্ছেদের কোন কাগজ পত্র তিনি পেয়েছে কিনা জানতে চাইলে সাজু দে জানান, এই রকম কোন কাগজ পাইনি। ১৫ দিন আগে হুট করে ঘরে ছেড়ে সুদের ব্যবসায়ী মালেকের কাছে আমার দুই ছেলে নিয়ে চলে যায়। আমি এসে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বড় ছেলেকে উদ্ধার করি,আমি আমার ছোট ছেলেকেও ফিরিয়ে পেতে চাই।

সুদের ব্যবসায়ী মালেক জানান,বীনা নাথ আমার বউ। তাকে আমি বিবাহ করছি। তার দুই ছেলে আমি রাখবো না। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে আমাদের প্রেম ভালোবাসা। আইন অনুযায়ী আমরা স্বামী -স্ত্রী।

আইনের কাগজ পত্র দেখাতে বললে কিছু দেখাতে পারেনি মালেক ও বীনা নাথ। অথচ লোক চোখের আড়ালে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে পরকীয়া, দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে ১ ঘরে তারা। যা অবৈধ ও আইনের পরিপন্থি বলে জানিয়েছেন ঢাকা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি এডভোকেট সুমন কুমার রায়।
তিনি আরো জানান, কোন স্ত্রী-স্বামী থাকা কালীন অন্য পরপুরুষের সাথে পরকীয়া করতে পারে না যদি করে সেটা হচ্ছে সম্পূর্ণ অবৈধ।
বিবাহ বিচ্ছেদের যে নোটারী তারা করছে সেটার কোন ভিত্তি নাই। এই নোটারী স্বামীর কাছে পৌঁছানো উচিত ছিলো সেটা স্বামী সাজু দে পাইনি।
একই সাথে তারা বিবাহ করছে এমন কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারলে একসাথে বসবাস করলে সেটাও অপরাধ বলে গণ্য হবে।

এই বিষয়ে রামু থানার তদন্ত ওসি জানান,আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, বড় ছেলেকে উদ্ধার করছি।ছোট ছেলেটা যেহেতু মায়ের সাথে থাকতে চাই, থাকা আনা সম্ভব না। তাদের বিবাহের বৈধ কাগজপত্র দেখানোর কথা ছিলো, সেটা এখনো দেখাতে পারেনি। আমরা অবশ্যই আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More