১৭ জোড়া বর-কনের বিয়ে দিলো ভোলা সমিতি l

১৭ জোড়া বর-কনের বিয়ে দিলো ভোলা সমিতি l

প্রতিটি মানুষের জীবনে বিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। জন্ম ও মৃত্যুর পরই মানুষের জীবনে বিয়ে অনেক বড় একটি ঘটনা। শনিবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর ফুলবাড়ীয়ায় সমিতির কার্যালয়ে প্রতি বছরের মতো এ বছরও বিয়ে সহায়তা প্রকল্পের আওতায় ১৭ জোড়া বর-কনে বিয়ে দিয়েছে ঢাকাস্থ ভোলা সমিতি।

অনুষ্ঠানে নয়া বরকনেদের আশীর্বাদ করতে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য আলী আজম মুকুল এমপি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, ভোলা সমিতির সভাপতি মো. মাকসুদ হেলালী, সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদুল হক মুকুল, বিয়ে সহায়ত প্রকল্পের সমন্বয়ক এবিএম মামুন অর রশিদ, সহ সভাপতি প্রকৌশলী এটিএম মহিউদ্দিন ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আহবায়ক এমইউ গোলাম রসুল বেলাল, সদস্য সচিব এসএম মনিরুজ্জামান লিটন, মিডিয়া কমিটির আহবায়ক এমদাদুল হাসান রাফেজ, সদস্য সচিব মোসলে উদ্দিন রিফাত, মোহাম্মদ আলী সবুজসহ ভোলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

কে এই মুরাদ হাসান

সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় গড়ে তোলেন ১০১ সদস্যের সন্ত্রাসী বাহিনী। এর সদস্যরা যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ টিআর, জিআর, কাবিখার বরাদ্দ লুটপাট চালিয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর নির্বাচনি এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন তিনি। সর্বশেষ তার কিছু অডিও-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এর আগে বিএনপি মহাসচিব এক সমাবেশে ঘোষণা দেন, মুরাদ মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদলের রাজনীতি করেছেন।

ডা. মুরাদ হাসান জামালপুর-৪ আসন থেকে দুবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর তাকে প্রথমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। কয়েক মাস পরই তাকে স্বাস্থ্য থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।

ডা. মুরাদ হাসানের বাবা অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান তালুকদার জামালপুর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। আওয়ামী লীগ করতে গিয়ে তাকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। এমন ত্যাগী নেতার ছেলে বিএনপি করে এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গণমাধ্যমগুলো অনুসন্ধানে নেমে বের করে আনে প্রকৃত তথ্য। ছাত্রদলের হাত ধরেই মুরাদ রাজনীতিতে আসেন।

জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা মুরাদ হাসান। তার বাবা অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান তালুকদার জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা বারে দীর্ঘদিন সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মা মনোয়ারা বেগম মিনু একজন গৃহিণী। অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান তালুকদারের দুই ছেলে, এক মেয়ে। বড় ছেলে মাহমুদুল হাসান মিন্টু হাইকোর্টের বিচারপতি, ছোট ছেলে মুরাদ হাসান, মেয়ে মমতাজ জাহান ডিজু। জামালপুর শহরে নয়াপাড়ার বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন মতিউর রহমান। শহরে বসবাসের সুবাদে জামালপুর জেলা স্কুল থেকে ১৯৯০ সালে এসএসসি পাশ করেন মুরাদ হাসান। এরপর ঢাকা নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন তিনি।

মুরাদ হাসান ২০০০ সালের পর থেকে এলাকায় এসে সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হিসাবে নির্বাচিত হন তিনি। এমপি হয়েই আওয়ামী লীগের মধ্যে গ্রুপিং তৈরি করে একক আধিপত্যের কৌশল নেন। এর মাঝে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যপদ পান। এই পদ পেয়েই নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে ১০১ সদস্যের একটি ক্যাডার বাহিনী গঠন করেন মুরাদ। ওই সময় তার ক্যাডার বাহিনী সরিষাবাড়ীতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। এ বাহিনীর সদস্যদের হাতে অনেক নেতাকর্মী লাঞ্ছিত হন। এছাড়া মুরাদ বাহিনীর সন্ত্রাসীরা যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ টিয়ার, জিয়ার, কাবিখার বরাদ্দের অর্থ লুটপাট করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের দলীয় পদ-পদবিধারী নেতাকর্মীরা মুরাদ ও তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে টুঁ শব্দ করার সাহস পাননি। এতে মুরাদের দম্ভ দিন দিন বেড়েছে।

ছাত্রদলের হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন মুরাদ : ময়মনসিংহ ব্যুরো থেকে অমিত রায় জানান, ডা. মুরাদ হাসান এমপি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) শাখা ছাত্রদলের ১৯৯৬-৯৮ কমিটির প্রচার সম্পাদক ছিলেন। এ পদে তিনি চার থেকে পাঁচ মাস দায়িত্ব পালন করেন। তখন ছাত্রদল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি ছিলেন সৈয়দ মেহবুব উল কাদির ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মো. ইসহাক।

ডা. মুরাদের এক ব্যাচ সিনিয়র ও ’৯৮-র মমেক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. ইসহাক জানান, বর্তমান তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান আদর্শচ্যুত মানুষ। তিনি তার পিতার রাজনৈতিক মতাদর্শের সুযোগে ছাত্রলীগের পদ বাগিয়েছেন। মুরাদ ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক থাকা অবস্থায়ই তৎকালীন সরকারের ক্ষমতার পালাবদল হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রদল মেডিকেল কলেজ শাখার নেতারা ক্যাম্পাস ছাড়তে বাধ্য হলেও তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। অর্থাৎ বিএনপি-আওয়ামী লীগ দুই আমলেই মুরাদ ছিলেন সুবিধাভোগী নেতা ও মমেক ক্যাম্পাসে ক্যাডার।

সাবেক ছাত্রদল নেতা ডা. মো. ইসহাক আরও জানান, ১৯৯৩ সালে এম-৩০ ব্যাচে মুরাদ হাসান এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের ৭১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। মুরাদ হাসান এতে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে ৫ থেকে ৬ মাস দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ছাত্রদল থেকে পদত্যাগ করে ছাত্রলীগে যোগদান করেন তিনি।
এ বিষয়ে ওই সময়ে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক, বর্তমানে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম রিপনের সঙ্গে যুগান্তরের কথা হয়। তিনি বলেন, মুরাদ হাসান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ভর্তির পর থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এলে তিনি ছাত্রলীগে যোগদান করেন। ১৯৯৭-৯৮ সালে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১৯৯৯-২০০০ সালে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

বিএনপির শাসনামলে ছাত্রলীগের প্রকাশ্য রাজনীতির একজন মমেক ২৯তম ব্যাচের ছাত্র ডা. বিজয় কুমার পাল। ১৯৯৭-৯৮ সালে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আর এই কমিটির সভাপতি ছিলেন আব্দুল ওয়াহাব সরকার বাদল। সেই মমেক বাদল-বিজয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বর্তমান সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। পরে ২০০০ সালে ডা. মুরাদ হয়েছেন মমেক ছাত্রলীগের সভাপতি।

তিনি জানান, ১৯৯৪ সালে ৩০ ব্যাচের কাউকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকতে দেখা যায়নি। তবে ৩১ ব্যাচের অনেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। ডা. বিজয় জানান, ডা. মুরাদের পিতা ছিলেন জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর। মুরাদকে পদে আনতে চারদিক থেকে আমাদের ওপর চাপ ছিল। সে ছাত্রদল নেতা জানা সত্ত্বেও অনেকটা বাধ্য হয়েই আমরা তাকে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বানিয়েছি।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও তৎকালীন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোতাহার হোসেন তালুকদার জানান, ডা. মুরাদ হাসান ১৯৯৬-এর ডিসেম্বর মাসে ছাত্রদল থেকে পদত্যাগ করে ছাত্রলীগে যোগদান করেন। পদত্যাগ করার আগে মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।